চাঁদপুরের কচুয়ায় শ্বশুর বাড়িতে নতুন বর শিপন ও তার বাবা মিলন মিয়াকে শিকলে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার গোহাট উত্তর ইউনিয়নের খিলা গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
৫দিন পর বুধবার রাতে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ছেলে ও মেয়ে পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার রামসোনা গ্রামের কাভার্ডভ্যান চালক শিপনের সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের মাধ্যমে গত ৩ মাস আগে বিয়ে হয় কচুয়া উপজেলার হালিমা বেগমের।
বিয়ের পর থেকে তারা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় দেলপাড়াতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের মাঝে মনোমালিন্য হলে হালিমা কিছু দিন আগে তার বাবার বাড়ি চলে আসেন।
গত শনিবার রাতে শিপন তার স্ত্রী হালিমা বেগমকে নিতে তার শ্বশুর বাড়ি কচুয়া উপজেলার খিলা গ্রামে আসলে হালিমার পরিবারের লোকজন শিপনের পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরের একটি কক্ষে তালা দিয়ে রাখে। খবর পেয়ে সোমবার শিপনের বাবা মিলন মিয়া ময়মনসিংহ থেকে কচুয়ায় আসলে হালিমাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা বলে কাবিননামার এক লাখ ১০ হাজার টাকা দাবি করে শিপনের বাবা মিলনকেও আটকে রাখে।
খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ বুধবার রাতে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজনকে বুঝিয়ে পারিবারিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ওসি ওয়ালী উল্লাহ ওলী বলেন, ময়মনসিংহ জেলার শিপন ও চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার হালিমা গত ৩ মাস আগে প্রেম করে বিয়ে করে। পরবর্তীতে তাদের মাঝে মনোমালিন্য দেখা দিলে কনে তার বাবার বাড়ি চলে আসেন। বর তার স্ত্রীকে নিতে আসলে কনে পক্ষের লোকজন তাদের মেয়েকে মারধর ও অত্যাচারের অভিযোগে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রাখে।
এই খবর পেয়ে বরের বাবা মিলন মিয়া আসলে তাকেও আটকে রাখে তারা।
ওসি বলেন, এই খবর জানতে পেরে বুধবার বিকেলে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা সমাধান করা হয় এবং ছেলে ও মেয়ে পক্ষ একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বর ও তার বাবাকে কনেদের বাড়ি নিয়ে যায়।
