শীতের অসুখ প্রতিরোধে

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৪ এএম

সময়ের ধারাবাহিকতায় প্রকৃতিতে এখন শীতকাল। এই সময়ে যেহেতু শীতের শুকনো আবহাওয়ায় বাতাস ভারী হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস বাতাসের নিচের স্তরে নেমে আসে এবং খুব সহজেই মানুষকে সংক্রমিত করে। আর এই ভাইরাসের সংক্রমণে জ¦র, সর্দি, কাশি, চিকেন পক্স, মাম্পস প্রভ…তি রোগে আক্রান্ত হয় শিশু, যুবা, বৃদ্ধ, সকলেই। সেই সঙ্গে এ সময় বেড়ে যায় ফুসফুসের রোগের প্রবণতাও। যেমন– ইনফ্লুয়েঞ্জা, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, হাঁপানি, শিশুদের নিউমোনিয়া ইত্যাদি। এসব রোগের পাশাপাশি নাকের প্রদাহ, চোখের প্রদাহ, টনসিলের প্রদাহ, গলাব্যথা প্রভৃতি রোগও হরহামেশাই হয়ে থাকে।

এদেশে শীতকালে মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও বেশ লক্ষণীয়।

অন্যদিকে শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, অপরিচ্ছন্ন মোটা কাপড় পরিধান, এক বিছানায়  চাপাচাপি করে ঘুমানো ইত্যাদি কারণে কিছু কিছু চর্মরোগের প্রকোপও অনেক বেড়ে যায়। যেমন– দাদ, খোসপাঁচড়া, খুজলি, খুশকি প্রভ…তি। এ ছাড়া হাত-পা ফাটা, শুষ্ক, রুক্ষ ত্বক আর চুলের সমস্যা তো রয়েছেই।

এসব রোগ একজন কর্মক্ষম, শক্তিশালী মানুষকে খুব সহজেই দুর্বল করে ফেলে। যার ফলে শীতকাল উপভোগ্য না হয়ে হয়ে দাঁড়ায় কষ্টের কারণ। কিন্তু কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে খুব সহজেই এসব রোগকে দূরে রাখা যায়।

রোগাক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে যাতে রোগে আক্রান্ত হতে না হয় এ বিষয়ে সচেতন হলে প্রায় সব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো কী হওয়া উচিত

 সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গস্নাস গরম পানি পান করুন। এতে শরীরের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

 সকল কাজে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন।

 সুতি কাপড়ের ওপর উলের পোশাক পরবেন। সকল পোশাক যেন অবশ্যই পরিষ্কার হয়। মাঝে মাঝে কাপড়চোপড় রোদে দিন।

 প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন। গোসলে কম ক্ষারীয় সাবান ব্যবহার করতে হবে।

 সপ্তাহে দু’বার মাথায় তেল ম্যাসাজ করুন এবং তিনবার শ্যাম্পু, কন্ডিশনিং করুন।

 গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ঠোঁট, মুখ, ত্বক এবং হাতে-পায়ে অলিভ অয়েল মাখুন। সেই সঙ্গে ছোটদের পোশাক এবং ত্বকের বিশেষ যত্ন নিন।

  জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি বা অন্য যে কোনো সমস্যায় রেজিস্টার্ড এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকুন।

 বাইরে বের হলে বা ঘরে ধুলাবালির কাজ করলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করুন। নিজের হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন যাতে আপনার দ্বারা ভাইরাস না ছড়ায়।

 নাক বন্ধ লাগলে গরম পানির ভাপ নিন। চোখের প্রদাহ এড়াতে রোদচশমা ব্যবহার করুন।

 প্রচুর বিশুদ্ধ পানি, লেবুর রস, আমলকী, পেয়ারা, রসুন এবং কালিজিরা প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখুন।

 প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করুন।

 স্বাস্থ্যকর, আলো-বাতাসপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করুন। সুস্থ থাকুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত