প্রাইভেট হসপিটালে ইনজেকশন দিয়ে প্রসূতিকে মেরে ফেলার অভিযোগ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:১৩ পিএম

দিনাজপুরের এইচ.কে মাদার কেয়ার প্রাইভেট হসপিটালে সিজারের পর এক প্রসূতি মাকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগেও একই ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ।

শনিবার ভোরে ওই হাসপাতালে মোছা. বিউটি আরাকে (৩৫) ভর্তি করানোর পর চিকিৎসকরা সিজার করার পরামর্শ দেন। সিজার করার পর কয়েক ঘণ্টা সন্তান এবং মা ভালো থাকলেও বেলা ১১টার দিকে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই ওই মা ছটফট করতে করতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৃত বিউটি আরার পরিবার।

মৃত বিউটি আরা সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের উত্তর বংশীপুর এলাকার মো. আব্দুল মান্নান এর স্ত্রী।

বিউটির বড় বোন মোছা. ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেজ বোন বিউটি আরাকে ভোর ৫ টায় এইচ.কে মাদার কেয়ার হসপিটালে ভর্তি করাই। ভর্তি করার পর ওখানের ডাক্তারদের পরামর্শে আমার বোনকে সিজার করানো হয়। সিজার করানোর পর আমার বোন বিউটি আরা কয়েক ঘণ্টা ভালোই ছিল। কিন্তু বেলা ১১টা বা সাড়ে ১১টার দিকে আমার বোনকে একটি ইনজেকশন দিলে সঙ্গে সঙ্গেই ছটফট করতে থাকে। ছটফট করার একপর্যায়ে আমার বোন মারা যায়।

ফাতেমা বেগম আরও বলেন, ‘কি ইনজেকশন দিল সেটা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের সেটা বলেনি এবং আমার বোনের ফাইলটা হাসপাতাল থেকে গায়েব করা হয়েছে। আমরা ফাইলটা চাইলেও তারা দেয়নি।’

এ বিষয়ে এইচ.কে মাদার কেয়ার হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায় কর্তৃপক্ষ। হসপিটালের স্বত্বাধিকারী ডা. হজরত আলী সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোন কথা বলবেন না বলে জানান।

ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাওয়ার পর ভাঙচুরের কথা শুনে ঘটনাস্থলে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা বজলুর রসিদ বলেন, ‘রোগী মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে হসপিটালে ভাঙচুরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ বিষয়ে যদি রোগীর স্বজনরা থানায় অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এইচ.কে মাদার কেয়ার হসপিটালের লাইসেন্স নবায়ন করতে বলার পরেও তারা কোন কথা শোনেনি। সেখানে যে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কথা বলা হয়েছে সরেজমিনে গিয়ে তাদের কোন খবর পাওয়া যায়নি। বরং ওই হসপিটালের মালিক ডা. হজরত আলী নিজেকে জেলার শ্রেষ্ঠ সার্জন হিসেবে দাবি করেছেন। সেখানে ডা. হজরত আলীর সন্তানও চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন, কিন্তু তাদের কোন অভিজ্ঞতা নেই। আমরা দ্রুত ওই হসপিটালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত