গণহত্যা অস্বীকারকে ‘অপরাধ আইন’ এর আওতায় আনতে হবে: শাহরিয়ার কবির

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২০ পিএম

গণহত্যা অস্বীকারকে ‘অপরাধ আইন’-এর আওতায় আনতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

শনিবার বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যার কারণ এবং গণহত্যাকারীদের বিচার’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

বিকেল ৪ টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আলোচনা শুরুর আগে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সৈয়দ হাসান ইমামের কণ্ঠে কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও আবুল হাসানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘দেশের জন্য একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ কখনই বিস্মৃত হবার নয়।’

একক বক্তা শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘১৯৭১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন পরাশক্তি পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করলেও সেসব দেশের গণমাধ্যম পাকিস্তানি গণহত্যার সংবাদ ও ছবি প্রকাশ করে এই গণহত্যার ঐতিহাসিক প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান এবং এর সুবিধাভোগী চক্র নানাভাবে গণহত্যার ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এজন্য যেমন একাত্তরের বর্বর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে আমাদের তৎপর হতে হবে তেমনি গণহত্যা অস্বীকারকে ‘অপরাধ আইন’-এর আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও ভয়াবহ গণহত্যা হয়েছে, তবে তা ছিল ছয় বছরব্যাপী একাধিক মহাদেশে চলমান যুদ্ধে পরিচালিত গণহত্যা। আর বাংলাদেশে নয় মাসে মাত্র ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে যে গণহত্যা চালানো হয়েছে তা নজিরবিহীন। অতিসম্প্রতি আমরা জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন শুরু করলেও একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এখনও সক্ষম হইনি।’

স্বাগত বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘বাংলা একাডেমি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রকাশ করেছে শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থ, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারকগ্রন্থ, নবপর্যায়ে পুনর্বিন্যস্ত চারটি খণ্ডে স্মৃতি: ১৯৭১ এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রচনাসমগ্র।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত