মাথার আঘাতে লিটনের মন টলেনি

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:২২ এএম

বলটা লাগে মাথায়। প্রভাব পড়ে মনে। বাউন্সারের আঘাতে ফিল হিউজের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মাইকেল ক্লার্কের মতো খেলোয়াড়েরও মাঠে আগের সাহস নিয়ে খেলতে যথেষ্ট সময় লেগেছিল। লিটন কুমার দাসের কি ভারতের বিপক্ষে ইডেন টেস্টের প্রথম দিন মোহাম্মদ শামির বলে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়ার সময় বা পরে হিউজের কথা মনে হয়েছিল?

‘না না, আমার ওরকম কিছু মনে হয়নি।’ ২২ নভেম্বরের চা বিরতির ঠিক আগের ঘটনার কথা গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আবার উঠে এলে মাথা নাড়েন লিটন। ওই মাথা বাঁচাতে ব্যর্থ হওয়াতেই না কত ঝামেলা! বাংলাদেশের প্রথম কনকাশন আক্রান্ত খেলোয়াড় হয়েছেন লিটন। ২৪ রান করে আঘাত পেয়ে মাঠ থেকে সরাসরি হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। আর খেলা হয়নি দেশের প্রথম গোলাপি বলের টেস্টে।

মাথায় এমন আঘাত লাগলে ক্রিকেটারদের স্বাভাবিক হতে সময় লাগে। কারও কারও মনে আজন্ম এক ভীতি থেকে যায়। দেশের অনন্য প্রতিভাদের একজন ধরা হয় যে লিটনকে তার অবচেতনে ব্যাপারটা আছে কি না বলা মুশকিল। তবে এবারের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দুই ম্যাচে ওপেনার লিটনের যে পারফরম্যান্স তা জানিয়ে যাচ্ছে সবকিছু কাটিয়ে ওঠার কথা। ঢাকায় দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে তাদের রাজশাহী রয়্যালস। লিটন ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ৩৯ রান করার পর ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে।

ইডেন টেস্টের আগে ভারতীয় মিডিয়ায় সংবাদ হয়েছিল, কৃত্রিম আলোতে গোলাপি বলের রং বুঝতে নাকি লিটনের সমস্যা এবং তাতে বিচলিত বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। এরপর বলের আঘাতে মাঠ ছাড়ার ঘটনা প্রথম দিনে কৃত্রিম আলোতে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল ওই প্রসঙ্গ তোলা সাংবাদিক রীতিমতো বিব্রত হয়ে পড়লেন। ‘ভারতীয় মিডিয়া নাকি আপনারা করেছেন?’ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিটন বলেন, ‘বিষয়টা নির্ভর করে আপনাদের ওপর, আপনারা কীভাবে নিচ্ছেন। যদি আমার বল দেখতে সমস্যা হতো, তাহলে তো প্রথম বল থেকেই খেলতে পারতাম না।’ এ বিষয়টা তার মনে যে গভীর ক্ষত তৈরি করে রেখেছে সেটা লিটন বুঝিয়ে যান অকপটে, ‘আপনাদের একটা নিউজ বা ভারতের একটা নিউজ অনেক মানুষ দেখে। বাংলাদেশের মিডিয়াকে সবাই অনুসরণ করে। যারা গ্রামে থাকে, তারা কিন্তু দেখে এবং চিন্তা করতেই পারে যে লিটন মনে হয় কালার ব্লাইন্ড।’ ভারতের মিডিয়া থেকে খবরটা বাংলাদেশের কোনো কোনো মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল। লিটনের মূল ক্ষোভটা সেদিকেই হয়তো।

তবে ওভাবে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বলে মনে খুব কষ্ট আছে ২৫ বছরের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের, ‘জীবনে প্রথমবার সুযোগ ছিল গোলাপি বলে খেলার। যেহেতু ম্যাচে খেলেও আমি পুরোটা কাভার করতে পারিনি। এদিক থেকে খারাপ লেগেছে। তারা ঝুঁকি নিতে চাচ্ছিল না। কারণ (বল) লাগার পর আমি উঠে গিয়ে আবার ব্যাট করব আমার ওই অবস্থা ছিল না।’ সতর্কতা ও কৌশল হিসেবে মাঠ থেকে তুলে নিলেও পরে কনকাশনের কিছু উপসর্গে ভুগেছেন লিটন, ‘মানসিকভাবে ওরকম চাপে ছিলাম না। মাথায় একটা বল লাগলে স্বাভাবিক কিছু উপসর্গ থাকে যেমন মাথাব্যথা বা একটু ভারী ভারী হওয়া। এই জিনিসগুলো আমি অনুভব করেছি কয়েকটা দিন।’

ওটা এখন অতীত। লিটন ফর্মে আছেন। চট্টগ্রামে রানও হয় প্রচুর। কিন্তু ডানহাতির দর্শনটা এখন এমন, ‘আমি চাচ্ছি না যে একশই মারতে হবে। দলের জন্য যেটুকু করার সেটা করতে পারলেই আমি খুশি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত