রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:০০ পিএম

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম থাকায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষ ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় ১৯৭১ সালের উত্তর জনপদের মুক্তিযোদ্ধাদের বৃহত্তম সংগঠন ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবির’ এর সর্বাধিনায়ক আব্দুল লতিফ মির্জার নাম থাকায় এলাকাবাসী মঙ্গলবার এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

বুধবার এর প্রতিবাদে উল্লাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রতিবাদ মিছিল ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। 

এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ মির্জার মেয়ে সেলিনা মির্জা মুক্তি সাংবাদিকদের বলেন, এই তালিকা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে, নাকি কোন ষড়যন্ত্র হয়েছে, তা ক্ষতিয়ে দেখা উচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলে বে-সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবির’ ছিল পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোষর রাজাকার, আলবদরদের আতঙ্ক।

তিনি বলেন, আমার বাবা আব্দুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের মুক্তিযোদ্ধারা তাড়াশের নওগাঁয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ওই যুদ্ধে ১৫/১৬ জন পাকিস্তানি নিহত হয়। এই শিবিরের মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ শত।

তিনি আরও বলেন, মির্জা আব্দুল লতিফ দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমাদের পরিবার এই তালিকা দেখে বিস্মিত ও হতবাক হয়েছেন। এটা গোটা জাতির জন্য অসম্মানজনক। মির্জা আব্দুল লতিফ যদি রাজাকার হন তাহলে বাংলাদেশই অবৈধ হবে।

মুক্তি মির্জা সিরাজগঞ্জের সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে তার প্রয়াত পিতার এই অবমাননার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভুল হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। সেই সঙ্গে অবিলম্বে প্রকাশিত রাজাকার তালিকা সংশোধনেরও জোর দাবি জানান।  

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার খোরশেদ আলম ও অপর মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা জানান, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা আব্দুল লতিফ মির্জার নাম থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তারা ইতিমধ্যেই এর প্রতিবাদে মিছিল ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।

সাবেক কমান্ডার খোরশেদ আলম আরও বলেন, তাদের তৈরি করা তালিকার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তালিকার কোন মিল নাই। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত