ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দুই অভিযোগে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে অভিশংসিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনই তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে না।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে পারবেন কিনা সিনেটের ভোটে তা চূড়ান্ত হবে।
কিন্তু সিনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে সেখানে ট্রাম্পের অভিশংসন আটকে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবতা এত সহজ নয়।
তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হলেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সিনেটে ভোটাভুটি কখন হবে এখন তা পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি। তবে শীতকালীন ছুটির পর জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে সিনেট এই বিচারের ব্যাপারে সাধারণ সম্মতি নেওয়া শুরু হবে।
বিবিসি বাংলা জানায়, সিনেটে সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার এমন অনুরোধ করেছেন। রিপাবলিকান সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেলও হয়তো এই প্রস্তাবে সায় দেবেন।
এ বিষয়ে কিছুটা অস্পষ্ট আইনি বিতর্ক রয়েছে যে নিম্নকক্ষের ভোটের পরই সিনেটে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়, নাকি নিম্নকক্ষ থেকে অভিশংসনের কাগজপত্র সিনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করতে হয়।
এটি এজন্যই জরুরি যে, এমন একটা ধারণা রয়েছে- স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি যতক্ষণ না পর্যন্ত নিশ্চিত হচ্ছেন যে সিনেট নিরপেক্ষ বিচার আয়োজন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি অভিশংসনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারেন।
এরই মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকান ঘোষণা দিয়েছেন তারা প্রেসিডেন্টকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্যই ভোট দেবেন। আবার অনেক ডেমোক্র্যাট মনে করেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া সব প্রমাণ সাপেক্ষে প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব থেকে অপসারিত হতে পারেন।
মূলত প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় সহজেই ট্রাম্পকে অভিশংসন করতে পেরেছে ডেমোক্র্যাটরা। কিন্তু সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় কাজটি সহজ হবে না।
এক্ষেত্রে সিনেটরদের যেহেতু স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, কয়েকজন সিনেটর দলের বাইরে গিয়ে ভোট দিলেই কপাল পুড়তে পারে ট্রাম্পের।
অবশ্য ট্রাম্প চূড়ান্তভাবে অভিশংসিত না হলেও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে সচেষ্ট থাকবে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসিত হওয়ার প্রায় কোনোরকম সম্ভাবনা না থাকলেও তারা এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টকে তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী করার উদ্দেশ্যে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করার দায়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা না করলে হয়তো তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনকে ঘিরে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতেন যা ডেমোক্র্যাটদের আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতো।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বিবেচনা করলেও, দলের সমর্থকদের আনুগত্য ধরে রাখতে ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা প্রয়োজন ছিল ডেমোক্র্যাটদের।
অভিশংসনের ঘটনা ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। রিপাবলিকানরা ফলাও করে প্রচার করছে, অভিশংসন কীভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার অর্থায়নের জন্য সুবিধা তৈরি করে দিচ্ছে। কারণ সমর্থকরা প্রেসিডেন্টের পাশে আরও জোর দিয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছে, এই অভিশংসন ট্রাম্পের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করবে। ফলে ভোটাররা তাকে ভোট দিতে গিয়ে সংকোচের মধ্যে পড়বে।
অবশ্য সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের পক্ষে ও বিপক্ষের মতামত অভিশংসন সংক্রান্ত গত কয়েক মাসের নাটকে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
