ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত নাগরিক সুবিধা বাস্তবায়নে সরকার সারা দেশে তথ্য বাতায়ন চালু করে। এরই অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট করে রাজশাহীর সব সরকারি দপ্তর। কিন্তু এসব সাইটের বেশিরভাগ নিয়মিত আপডেট হয় না। এমনকি দপ্তর প্রধান দীর্ঘদিন বদলি হলেও সাইটে তিনিই বহাল রয়েছেন। জেলা প্রশাসক বলছেন, শিগগিরই সব সাইট আপডেটের ব্যবস্থা করা হবে।
রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও জেলা অফিসের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, নিয়মিত আপডেট না হওয়ায় বাস্তবতার সঙ্গে অনেক তথ্যের মিল নেই। বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ছয় মাস আগে বদলি হয়েছেন। এ পদে আজমল কবির এসেছেন, কিন্তু ওয়েবসাইটে এখনো হাফিজুর রহমানের নাম রয়েছে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ আগস্ট। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব আনওয়ার হোসেন। কিন্তু তথ্য বাতায়নে আগের নামই রয়েছে। একইভাবে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শকের কোনো কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর বাতায়নে পাওয়া যায়নি।
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সবশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২০১৮ সালে। পবার ৭নং বদলগাছী ইউনিয়নের সাইট আপডেট হয়েছে গত বছরের আগস্টে। একই অবস্থা দুর্গাপুরের ৬নং মাড়িয়া, চারঘাটের ১নং ইউসুফপুর, ২নং শলুয়া ইউনিয়নের। ফলে বাতায়ন থেকে তথ্য নিতে গিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অথচ তথ্য বাতায়ন চালুর পর আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিকবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি, অতিরিক্ত দায়িত্ব) নজরুল ইসলাম জানান, ওয়েবসাইটগুলো আগে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক মাসিক সভায় বলার পরও কেন আপডেট হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জোর দিয়ে বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব বাতায়ন আপডেটের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
