চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নে গতকাল রবিবার ভোরে র্যাব অভিযান চালিয়ে চার ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ সময় দক্ষিণ চাম্বল শেখেরখীল রাস্তার মাথা এলাকার একটি স মিল থেকে গর্জনগাছের শতাধিক গুঁড়ি জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন জসিম উদ্দীন ওরফে পুইত্তা (৩২), ফিরোজুল ইসলাম (৩৮), মো. আলী (৩৭) ও ছাবের আহমদ (৪০)। র্যাব-৭ তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, বনদস্যুদের একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ বন্য প্রাণী ও বনাঞ্চল সংরক্ষণ বিভাগের জলদী অভয়ারণ্য চাম্বল, নাপোড়া ও পুঁইছড়ির পাহাড়ি এলাকায় গর্জনগাছ ও পাহাড়ের মাটি কেটে আসছিল। এ ব্যাপারে এর আগে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ভোরে চাম্বল পাহাড়ি এলাকায় র্যাব-৭-এর একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় ৩ বনদস্যুসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি জসিম উদ্দীনকে আটক করা হয়। জসিমের কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ছাড়া শেখেরখীল রাস্তার মাথা এলাকার একটি স মিল থেকে বনদস্যুদের রাখা গর্জনগাছের শতাধিক গুঁড়ি উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ‘জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের চাম্বলসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় কিছু ব্যক্তি গাছ ও মাটি কেটে থাকে। বনরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাদের ভয় দেখায় বনদুস্য দল। বনসম্পদ রক্ষায় ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
র্যাব-৭-এর অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, বাঁশখালীর চাম্বলে পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও চোরাই কাঠসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট চাম্বলে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি জসিম উদ্দীনকে একটি ওয়ান শুটারগান, ছুরিসহ আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।
