পাকিস্তান তাদের হোম টেস্ট পাকিস্তানেই খেলবে। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে পাকিস্তানের হোম টেস্ট কোথায় হবে সে সম্পর্কে কারোরই ভুল ধারণা থাকা উচিত নয়। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ বা অন্য যে কারোর হোম ম্যাচ পাকিস্তানেই হবে। আমি এখনো আশা করব বিসিবি বিষয়টা ভেবে দেখবে এবং পাকিস্তানে সফরে না আসার যে কোনো কারণ নেই তা মেনে নেবে।’
সাবেক আইসিসি চেয়ারম্যান এহসান মানি যুক্তি দেখান, ‘শ্রীলঙ্কা যদি আসতে পারে তাহলে এটাই প্রমাণ হলো পাকিস্তান নিরাপদ। অতি ক্ষুদ্র কোনো ঘটনাও যদি ঘটত লোকে বলতে পারত না ওখানে যাওয়াটা নিরাপদ না। কিন্তু ওরা পাকিস্তানের মানুষদের বিশ্বাস করেছে। তারা এসেছে, কারণ তারা যা শুনেছে তার চেয়ে বাস্তবতা ভিন্ন।’ পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, পাকিস্তানের মেয়েরা এসেছে, অনূর্ধ্ব ১৬ দল এসেছে। এবং তারা খুশি নিয়েই ফিরে গেছে। তাই আমরা তাদের কোনো রকম সন্দেহেই রাখতে চাই না যে পাকিস্তানের সঙ্গে খেললে পাকিস্তানেই খেলতে হবে।’
এদিকে, পাকিস্তানে গিয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে চাইলেও বাংলাদেশের টেস্ট খেলতে না চাওয়ার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না মিসবাহ-উল হক। পাকিস্তানের প্রধান কোচ ও প্রধান নির্বাচক রীতিমতো ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রতি।
আইসিসির এফটিপি অনুযায়ী, আগামী মাসে পাকিস্তানের হোম সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। যে সিরিজে রয়েছে তিন টি-টোয়েন্টি আর দুই টেস্ট। নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানে লম্বা সময় অবস্থান করতে এরমধ্যেই অপারগতা জানিয়ে দিয়েছে বিসিবি। তাই কেবল একটি ভেন্যুতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে রাজি বাংলাদেশ। আর টেস্ট সিরিজ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।
কিন্তু নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে না খেলার কথা জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানও। তাদের প্রধান কোচ মিসবাহ রীতিমতো ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের ওপর, ‘আমি তাদের রাজি না হওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না। তারা টি-টোয়েন্টি খেলতে আসবে কিন্তু টেস্ট খেলতে আসবে না– এর কোনো যুক্তি নেই। পাকিস্তানের প্রতি এটা অবিচার। যখন এখানে অন্য দলগুলো এসে সমস্যা ছাড়াই খেলে যাচ্ছে।’
পাকিস্তানের মাটিতে ১০ বছর পর টেস্ট সিরিজ শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা কালই। বাংলাদেশের সফর প্রসঙ্গে বলতে যেয়ে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক আজহার প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যদি এশিয়ার দলগুলো এবং এশিয়ার ক্রিকেট বোর্ডগুলো একে অপরকে সহায়তা না করি, তা হলে কোথায় গিয়ে থামব আমরা?’ টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট সিরিজ দুটোই খেলতে বাংলাদেশকে লম্বা সময়ই থাকতে হবে পাকিস্তানে। নিরাপত্তা সংকট তৈরির পর যা কোনো দলই করেনি। বাংলাদেশের আপত্তি এখানেই। বিসিবি জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল পাকিস্তানে ক্রিকেটারদের লম্বা সময় না থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
