গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ও ইউনিয়নের ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি ফেরতসহ সাত দফা দাবিতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. হাতে গণস্বাক্ষর এই স্মারকলিপি তুলে দেয় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৫৪ সালে গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়। আখ উৎপাদনের লক্ষ্যে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৫৫ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকার আশপাশের ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি রিকুইজিশন করে। রিকুইজিশনকৃত অধিকাংশ জমি সাঁওতালদের ছিল। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা এবং রংপুর ডিসির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের সম্পত্তি রিকুইজিশন আইনের আলোকে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সেই চুক্তির ৫ ধারায় বলা হয়, রিকুইজিশনকৃত জমি শুধুমাত্র রংপুর চিনিকলের কাঁচামাল হিসেবে আখ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হবে। আখ ব্যতীত অন্য কোন অর্থকরি ফসল উৎপাদিত হলে জমির প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণসহ জমি ফেরত দিতে হবে।
কিন্তু ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিল কর্তৃপক্ষ নামমাত্র দামে রিকুইজিশনকৃত জমি লিজ দিতে শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর মিল কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মচারী, স্থানীয় নেতা-কর্মী এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাঁওতালদের ওপর আক্রমণ করে। ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের একপর্যায়ে সাঁওতালদের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে।
এ ঘটনায় নিহত হন শ্যামল , মঙ্গল মার্ডি এবং রমেশ টুডু। তাই সাঁওতালদের বাবা-দাদার জমি ফেরত, ৬ নভেম্বরের ঘটনায় তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার ও প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি উল্লেখ করা হয় ওই স্মারকলিপিতে।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল চন্দ্র , নির্বাহী সদস্য রাজকুমার সাও, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন জেলা সংসদের সভাপতি প্রতিভা সরকার ববি, গাইবান্ধা কর্মজীবী নারী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জলি রানি দেবী, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সুমিতা রবিদাস, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির নেতা থমাস হেমব্রম ও বিজুল কিস্কু প্রমুখ।
