উমেদনগরের ‘বড় হুজুর’ তাফাজ্জুল হক মারা গেছেন

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৬:৪৩ পিএম

সিলেট বিভাগের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও হবিগঞ্জ উমেদনগর টাইটেল মাদ্রাসার পরিচালক, হবিগঞ্জ ইসলামী সংগ্রাম পরিষদের নেতা শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক আর নেই। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেট মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহে.... রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি বেশ কিছু দিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি উমেদনগরের ‘বড় হুজুর’ হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।

 ১৯৪৪ সালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাওলানা আব্দুন নুর ছিলেন একজন বড় আলেম। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায়।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত পির ও আলেমে দ্বীন চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক শায়খুল হাদিস আল্লামা আহমদ শফি আল্লামা তাফাজ্জুল হকের শিক্ষক।

 চট্টগ্রাম থেকে আল্লামা তাফাজ্জুল হক পাকিস্তানের লাহোর জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন।  এরপর তিনি চলে যান ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায়। সেখানে তিনি উস্তাদ শায়খুল হাদিস ফখরুদ্দিনের (র.) সান্নিধ্য লাভ করেন। আল্লামা ফখরুদ্দিন (র.) ছিলেন একাধারে পির ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা। ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার পর তাফাজ্জুল হক  চলে আসেন বাংলাদেশে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রায়ধর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসাবে তিনি প্রথম শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন। এরপর তিনি কুমিল্লার বরুরায় ও ময়মনসিংহের জামেয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসাসহ ময়মনসিংহ জেলায় বেশ কয়েক বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

স্বাধীনতার পর তিনি মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ পান হবিগঞ্জ  উমেদনগর মাদ্রাসায়। ১৯৫৭ সালে শায়খুল হাদিস মিছবাহুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত উমেদনগর মাদ্রাসায় যোগদানের পর তিনি দাওরায়ে হাদিস বিভাগ চালু করেন। 

১৯৯৭ সালে হবিগঞ্জের তেতৈয়া গ্রামে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মাদানি নগর মহিলা মাদ্রাসা। শায়খুল হাদিস তাফাজ্জুল হক বিয়ে করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহের বড় হুজুর হিসেবে খ্যাত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রবক্তা এবং ব্রিটিশদের কালো পতাকা প্রদর্শনকারী মাওলানা আরিফে রাব্বানীর মেয়েকে।

তাফাজ্জুল হকের পাঁচ ছেলের সবাই প্রখ্যাত মাওলানা। তাদের চারজন কোরআনে হাফেজ। চার মেয়ের সবাই টাইটেল পাস আলেম। 

তাফাজ্জুল হক ৩৮ বার হজ করেছেন। হবিগঞ্জ খোয়াই মুখ এলাকায় নুরুল হেরা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। গরিব-দুস্থদের সাহায্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন খুদ্দামুদ্দিন সমিতি।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী ও কয়েক হাজার ভক্ত তার বাসভবনে ভিড় করেন।   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত