ধর্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারকে দায়ী করল ঢাবি শিক্ষক সমিতি

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:৫৩ পিএম

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ছাত্রী ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার জন্য বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর শৈথিল্য ও বিচারে দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করেছে। 

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক এক বিবৃতিতে এমনটা দাবি করেন। 

বিবৃতিতে তারা দুই বছর আগে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্তী সোহাগী জাহান তনুসহ অন্যান্য নিপীড়নের ঘটনার বিচার দাবি করেন।

শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষক হিসেবে আমাদেরই সন্তানতুল্য একজন ছাত্রীর প্রতি এহেন পৈশাচিক উন্মত্ততায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, বেদনাক্লিষ্ট ও ক্ষুব্ধ। ধর্ষণ একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে পরণিত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্য, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা এবং কখনো কখনো সঠিক তদন্তের অভাবে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সমাজে ধর্ষণ-ব্যাধির বিস্তার ঘটে চলেছে। এখনই এসবের মূলোৎপাটনে রুখে দাঁড়াতে হবে, নতুবা এটি অধিকতর মহামারি আকার ধারণ করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী রোববার সন্ধ্যায় শেওড়ায় তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার সময় কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামার পরপরই তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার পর সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলা ওই ছাত্রী রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরে পেলে সহপাঠীদের ঘটনাটি জানান। রাত পৌনে ১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য শিক্ষকরা রাতেই হাসপাতালে ওই ছাত্রীর খোঁজ খবর নিতে যান। দোষীদের আইনের আওতায় আনাতে ওই ছাত্রীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত