দেশের আবহাওয়ায় চাষাবাদের উপযোগী ও উচ্চ ফলনশীল নতুন জাতের চেরি টমেটোর সফল অভিযোজন সম্পন্ন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক। সাম্প্রতি গোল্ডেন পুর্না (সাউ চেরি টমেটো) নামে জাপানি এ জনপ্রিয় চেরি টমেটো জাতটির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে উচ্চ ফলনশীল হলুদ রঙের এই চেরি টমেটোর জাত নিয়ে কাজ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন। গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও যুক্ত ছিলেন একই বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রাহুল শেখ ও রাকিবুজ্জামান মনি।
গবেষকদের দাবি, দেশে উদ্ভাবিত অন্য জাতগুলোর চেয়ে এই জাতের ফলন বেশি। সাধারণ টমেটোর চেয়ে প্রায় দুই মাস বেশি সময় ফল দেবে এই জাত। গায়ের রং হলুদ হওয়ায় চাহিদাও অনেক, তাছাড়া আকৃতি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য জাতগুলোর চেয়ে বেশি। হাইব্রিড প্রকৃতির না হওয়ায় কৃষক নিজেই বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবে। উৎপাদিত চারা ও মাতৃ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অনুরূপ থাকে। চারা লাগানোর পর ৩০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল ধরে। সাধারণত গাছ ২ মিটারের বেশি লম্বা হয়ে থাকে। প্রতিটি গাছে ৭-৮টি শাখা বের হয়। প্রতি থোকায় ২৪৫-২৫৫টি ফল ধরে। প্রতিটির ওজন হয় ৫-৬ গ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন হয় ১৬০-১৬৫ টন। সাধারণ জাতের ফলন নির্দিষ্ট সময়ের পর একবারে এলেও এই গাছটি লম্বা হওয়ায় দীর্ঘ দিন ফলন পাবে কৃষক। বেলে দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হলেও জাতটি বাড়ির ছাদসহ সারা দেশেই চাষ করা যাবে। চারা বপনের উপযুক্ত সময় অক্টোবর-নভেম্বর মাস। পর্যাপ্ত জৈবসার প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, পাতলা চামড়া বিশিষ্ট এ জাতের রসালো টমেটোতে প্রচুর ক্যারোটিনয়েড রয়েছে, যা চোখের জন্য বেশ উপকারী এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। সামনের বছর থেকে জাতটি কৃষকের কাছে ছড়িয়ে দেব। তাছাড়া সরকারি সহযোগিতা পেলে এ জাতটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করবে।
