পারিবারিক ও সামাজিকভাবেই দুর্নীতিকে উৎসাহ দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, নন ক্যাডারে পাশ করা অনেকের অভিভাবকও আমার কাছে তদবির নিয়ে এসেছে সাব রেজিস্ট্রার হওয়ার জন্য। এসব তীরে আমি নিজেও চরমভাবে ক্ষুব্ধ হই। আবার দেখা যায় একজন বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষকসহ অনেক মেধাবী বিসিএস পরীক্ষায় তাদের পছন্দের তালিকায় থাকে শুধু নির্দিষ্ট কিছু ক্যাডার। কিন্তু এটা কেন? সেখানে কি দুর্নীতির বেশি সুযোগ আছে তাই?
শনিবার সকাল ১০ টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে দুদক ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, দুদকের মহাপরিচালক (আইসিটি ও প্রশিক্ষণ) এ কে এম সোহেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. মনিরুল ইসলাম।
দুদক কমিশনার বলেন, দুর্নীতি দমনকারীরা নিজে দুর্নীতিগ্রস্ত হবেন না। এতে দুর্নীতিবাজরা হাসবে, বলবে দুর্নীতি দমনকারীদের আমরা ম্যানেজ করে চলি। এটা থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে। আমাদের তদন্তে ও কাজে পদ্ধতিগত কোন ভুল করা যাবে না। এতে আমাদের কনভিকশন বাড়বে ও দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন আমাদের একটি আন্দোলন। আন্দোলন একা একা করা যায় না, সকলে মিলে করতে হয়। পুলিশ আমাদের পাশে থাকলে নিজেদের আফ্রো শক্তিশালী মনে হয়।’
দুদক কর্তৃক দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় সাজার হার শতভাগ উল্লেখ করে মোজাম্মেল হক বলেন, এই সফলতার পেছনে পুলিশ ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করেছে। এই প্রশিক্ষণের ফলে দুদকের অফিসারদের কর্মক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন আসবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রযুক্তিগত জ্ঞান ব্যবহার করে অর্থের উৎস, কোথায় যায়, কোথা থেকে আসে এই কাজটি দুদক ও সিটিটিসি যৌথভাবে করে থাকে। মানিলন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে টাকা কোথায় যাচ্ছে তা খুঁজে বের করা জরুরি। এটা একটি জটিল প্রক্রিয়া। টাকার গতিবিধি খুঁজে পাওয়া একটি দুরূহ কাজ। আমরা চাই আমাদের কর্মকর্তারা খুঁজে বের করার কৌশল ভালো করে জানুক। কেউ যাতে বলতে না পারে সে প্রভাবশালী বলে মামলায় ফাঁক ফোকর রেখে তদন্ত করেছে। এটা যাতে কেউ বলতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে তদন্ত করতে হবে। দুদক কাউকে ধরলে তার বাঁচার কোন রাস্তা নেই, এই বার্তা সকলকে দেওয়া দরকার।
সভাপতির বক্তব্যে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সিটিটিসি মূলত সন্ত্রাস দমনে কাজ করে। দুদক মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে আমাদের একটা জায়গায় মিল রয়েছে সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন। এটা মূলত অর্থপাচারের মাধ্যমে হয়। কোন বৈধ পথে সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন হয় না। তদন্তের ক্ষেত্রে আমাদের এই কমন জায়গাটি রয়েছে।’
