দুদিন আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:১৮ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তারাবো পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার দুপুরে তারাবোর গন্ধর্বপুর এলাকায় ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও গন্ধর্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিক্ষোভ মিছিল ও গাড়ির টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন উপজেলার গন্ধর্বপুর এলাকার ছেলে তৌসিফ, কর্নগোপ এলাকার আফজাল ও রূপসী প্রধান বাড়ি এলাকার আবু সুফিয়ান সোহান।

এদের মধ্যে আবু সুফিয়ান সোহান তারাবো পৌরসভা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ওই ছাত্রী গন্ধর্বপুর এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে তৌসিফকে ৫০০ টাকা ধার দেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গন্ধর্বপুর স্ট্যান্ডে ধারের টাকা ফেরত আনতে যায় ভুক্তভোগী ছাত্রী। পরে টাকা ফেরত নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তৌসিফ, আফজাল, তারাবো পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান সোহান ও তানভীরসহ অজ্ঞাত দু-তিনজন তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

পরে রূপসী এলাকার একটি বাড়ি ও কর্নগোপ এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে ওই ছাত্রীকে দুই দিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। ধর্ষণের পর শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক এলাকায় ভুক্তভোগীকে ফেলে রেখে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন তাকে মৌচাক থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরো দুতিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে বিক্ষোভের সংবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে শান্ত করেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন, তারা কেউ পার পাবে না। আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করব।

রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রফিকুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত