লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্বামীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দিয়ে বেধড়ক মার খেয়েছেন সেলিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূ। স্বামীর নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তার স্বামীর নাম ওমর আলী। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এর আগে সোমবার বিকেলে উপজেলার পূর্ব নওদাবাস গ্রামে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুবনী গ্রামের মৃত বদিউজ্জামানের মেয়ে। অভিযুক্ত ওমর আলী উপজেলার পূর্ব নওদাবাস গ্রামের জোড়াল মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে সেলিনার সঙ্গে বিয়ে হয় ওমর আলীর। বিয়ের সময় ১ লাখ টাকা যৌতুকও দেওয়া হয়। কিছুদিন পরে সেলিনা জানতে পারেন ওমর আলীর সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে কথা বলায় তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। বছর ঘুরতেই তাদের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামী ও ভাবির অনৈতিক সম্পর্ক সহ্য করে আসছিলেন সেলিনা। এরপরও প্রায় সময়ে কারণে-অকারণে সেলিনাকে মারধর করেন তার স্বামী। এমনকি ওই ভাবিও সেলিনাকে মারধর করেন।
ঘটনার দিন সোমবার বিকেলে স্বামী ওমর আলী ও ভাবির পরকীয়া বাধা দিতে গেলে সেলিনাকে তার স্বামী কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন। এতে সেলিনা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে আহত অবস্থায় একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের লোকজন ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ শরীরে ক্ষত নিয়ে ব্যথার যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। বাম চোখ ফুলে গিয়ে ব্যথায় ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না।
সেলিনা আক্তার জানান, সোমবার আমার স্বামী ও তার ভাবি একান্ত সময় পার করছিলেন। এ নিয়ে আমি কথা বললে আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মরতে থাকে। আমি আর কিছু বলতে পারি না। জ্ঞান ফিরে দেখি বিছানায় শুয়ে আছি। আহত অবস্থায় আমাকে ঘরে আটকে রাখা হয়। ঘটনার পর দিন মঙ্গলবার বিকেলে আমার পরিবারের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মা মোমেনা বেগম জানান, আমার মেয়েকে ওর স্বামী প্রায় মারধর করেন। আমার স্বামী নেই, মারা গেছে। বাপ মরা মেয়ের নির্যাতনের বিচার কি হবে না?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর আলী বলেন, সামান্য ভুলের কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে এর বেশি কিছু না। এটা ঠিক হয়ে যাবে।
হাতীবান্ধা উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. নয়ন হাসান নাঈম জানান, নির্যাতনের ফলে বাম চোখে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে ওই গৃহবধূ। এ ছাড়া তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিংগীমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, আমি খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ওই গৃহবধূকে দেখে এসেছি। তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গৃহবধূর পরিবারকে পরামর্শ দিয়েছি।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
