পার্বতীপুরে রেলের জলাশয় ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:২৪ পিএম

জলাশয় ভরাট করে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করায় দিনাজপুরের রেল শহর পার্বতীপুর ক্রমেই জলাশয় শূন্যর উপক্রম হয়েছে।

শহরের গুলপাড়া, নুরনগর, রহমতনগর, পাওয়ার হাউস কলোনি, আদর্শ কলেজপাড়া, হলদিবাড়ি রেলগেট ও পার্বতীপুর বাসটার্মিনাল এলাকার সরকারি রেল ও অর্পিত সম্পত্তিতে থাকা অনেক জলাশয় ইতিমধ্যে ভরাট করে ব্যক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

জলাশয় ভরাট বন্ধে রেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কেউ এগিয়ে না আসায় শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শহরের কেন্দ্রস্থলে রহমতনগর মহল্লার প্রধান সড়কের পাশে প্রয়াত কফিল বিটি’র ছেলে প্রকৌশলী আবু হেনার দখলে থাকা পুকুরটি পার্বতীপুর মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, রেল পার্ক সংলগ্ন হোটেল মালিক আনিছুর রহমান ও পার্বতীপুর রেলওয়ের লোকোমাষ্টার (চালক) বুলবুল আহমেদসহ চারজনের কাছে অর্থের বিনিময়ে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহল্লার বাসিন্দারা স্থানীয় পার্বতীপুর রেল কাচারির কানুনগো জিয়াউল হক ও ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) মো. তৌহিদুল ইসলামসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলেও পুকুর ভরাট বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো গোপনে রাতের আঁধারে মাটি ভরাটের কাজ চালাচ্ছেন।  

পার্বতীপুর রেলওয়ের লোকোমাষ্টার (চালক) বুলবুল আহম্মেদ বলেন, জমির পূর্বের ভোগ দখলকারী প্রকৌশলী আবু হেনা জলাশয়ের ৫ শতক জায়গা আমার কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত অক্টোবর মাসে তিনি জায়গাটি লিজ নিয়েছেন। তবে জলাশয় ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, পিলার দিয়ে আমি অবকাঠামো নির্মাণ করব। 

উপাধ্যক্ষ আব্দুর রউফ ও লোকোমাষ্টার বুলবুল আহম্মেদ তাদের ক্রয় করা জায়গাগুলো রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে লিজ নিয়েছেন দাবি করেন। তবে, ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

রেলের জলাশয় কেনা-বেচা ও ভরাট প্রসঙ্গে পার্বতীপুর রেল কাচারির কানুনগো জিয়াউল হক বলেন, জলাশয় ভরাটের কাজ বন্ধ করা আমার দায়িত্ব নয়, এটা আইডাব্লিউর কাজ।

পার্বতীপুরে রেলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মাটি ভরাট  বন্ধে ইতিমধ্যে কানুনগো জিয়াউল হককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশে অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জলাশয় ভরাটের ব্যাপারে বলেন, জলাশয় ব্যক্তিগত হোক বা সরকারি হোক ভরাট করা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ অভিযোগ করলে আমরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।    

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত