এতিম কিশোরকে গলায় জুতার মালা দিয়ে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:৪৯ পিএম

লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ১৬ বছরের এক এতিম কিশোরকে মারধরের পর গলায় ঝাড়ু ও জুতার মালা পড়িয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পেশায় দোকান কর্মচারী ওই কিশোরকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ড এলাকায়। এ ঘটনায় সোমবার নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরের নানি বাদী হয়ে সদর থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এদিকে, নির্যাতনের পর ঝাড়ু ও জুতার মালা গলায় পরিয়ে ওই কিশোরকে এলাকায় ঘোরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ভাইরাল হয়ে যায়। এতে ওই কিশোরের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্নসহ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়রা জানান, গত ছয় মাস ধরে রাশেদের চামড়ার দোকানে কাজ করছিলেন ওই কিশোর। তবে দোকান মালিক রাশেদ তাকে কোন বেতন দেন না বলে কিশোরটির দাবি। বেশ কয়েকবার বেতন চাওয়ার পরও তা না দেওয়ায় কিশোরটি মালিকের অগোচরে দোকান থেকে টাকা নিয়ে নেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার বিকেলে দোকান মালিক কিশোরটিকে মারধরের পর গলায় ঝাড়ু ও জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরিয়ে নির্যাতন করে পুলিশে সোপর্দ করেন। কিন্তু পরে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে এনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মাতব্বরেরা সালিস বৈঠক ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ওই কিশোরের নানি জানান, আমার নাতিকে মারধর ও অপমানের ভিডিও এবং ছবি ফেইসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাকে পুলিশে দেওয়ার পর ছাড়িয়ে এনে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মাতব্বররা। জরিমানার টাকা দিতে না পারায় আমার নাতিকে আবারও নির্যাতন করা হয়। পরে রবিবার রাত ৯ টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শিপন ও সালিসদার ইসমাইল বলেন, ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর ঘটনা সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। আমরা বিচার শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি।

সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন জানান, কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত