যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনাকে ‘একপেশে’ এবং ‘শান্তিবিরোধী’ প্রস্তাব বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত শান্তি পরিকল্পনাটি ঘোষণা করেন।
পরিকল্পনাটিতে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অবিচ্ছেদ্য রাজধানী রাখার অঙ্গীকার আছে। এতে ট্রাম্প একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রেরও প্রস্তাব করেছেন এবং পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনাও রেখেছেন।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভিতকে স্থায়ী ও শক্তিশালী করে তুলতে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ রাজনীতিবিদ বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘ইসরায়েলি দখলদারির অবশ্যই অবসান ঘটাতে হবে এবং নিরাপদ ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশে ফিলিস্তিনিদের তাদের সংকল্পিত নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু সেটির কাছাকাছিই নেই ট্রাম্পের এই তথাকথিত 'শান্তি চুক্তি'। এটি কেবল সংঘাতকে চিরস্থায়ী করবে। এটি অগ্রহণযোগ্য।‘
আরেক শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, ‘ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা শান্তিকে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে নয়। দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর ইসরায়েলি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া থেকে মনোযোগ এড়াতে, এমন সময়ে এই প্রস্তাব ঘোষণা করা হলো।’
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যান্ডি লেভিন বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রের সমাধানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণা নামকাওয়াস্তে। এটি স্থায়ী শান্তি স্থাপনের জন্য নয়। এটি ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক মাতৃভূমিও রক্ষা করে না এবং ফিলিস্তিনিদের সংকল্প অনুযায়ী আকাঙ্ক্ষাও পূরণ করে না।’
এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্রিটেনের ‘বেলফোর ঘোষণার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন ফিলিস্তিনি রাজনীতিকরা। এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে তারা বলেছে, এটা কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে বেলফোর ঘোষণাকে চূড়ান্ত রূপ দেবে।
এই প্রস্তাবকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এটি নাকচ করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
পশ্চিম তীরের রামাল্লায় তিনি বলেন, ‘আমি ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে বলছি: জেরুসালেম বিক্রির জন্য নয়, আমাদের সব অধিকার বিক্রি হবে না এবং এ নিয়ে দর কষাকষিও হবে না। এবং আপনাদের চুক্তি, ষড়যন্ত্র পাস করা হবে না।’
