ট্রিপল সেঞ্চুরির চেয়েও তামিমের আনন্দ যেখানে

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৬:২৭ পিএম

ক্যালেন্ডারে দিনটা ছিল বিশেষ। ০২.০২.২০২০! প্যালিনড্রোম সংখ্যা। যে জাতীয় সংখ্যা দ্বিতীয়বার দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ কাল। ক্যালেন্ডারে রবিবারের বিশেষ এই দিনকে ক্রিকেট মাঠে তামিম ইকবাল নিজের জন্য বিশেষ করে রাখলেন। গড়লেন ইতিহাস।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে পূর্বাঞ্চলের ব্যাটার হাঁকালেন ট্রিপল সেঞ্চুরি। যে ট্রিপল সেঞ্চুরিও বাংলাদেশের ক্রিকেটে খুব বেশি আসে না।

৫৮৫ মিনিট ব্যাট করে ৪২৬ বলে ৩৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেন তামিম। বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যা এখন সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

পেছনে পড়ে গেল এর আগে দেশের হয়ে একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানো রকিবুল হাসানের ইনিংসটি। ২০০৭ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগে ৩১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন রকিবুল।

রকিবুলের ১৩ বছর পর দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ানের দেখা পেল বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। তামিম ইকবালকে তাই বিশেষ ভালো লাগা ছুঁয়ে যাবে এটিই স্বাভাবিক। সেটি গেছেও। তামিম যেমন দিন শেষে বলছিলেন, ‘আমরা এত দিন নিজেরা আলোচনা করতাম, ও (রকিবুল) কীভাবে এটা করেছে। এত দিনে কেউ আর করতে পারল না...।’

অবশেষে তামিমই সেটা পারলেন। দিন শেষে তাই বলছিলেন এই ইনিংস নিজের হৃদয়ে আলাদাভাবে থাকবে, ‘এটা ভেরি স্পেশাল ইনিংস। তিন শ রান আপনি যেকোনো প্রতিপক্ষ বা যে কোনো পর্যায়েই করেন না কেন, এটা কঠিন। যদি সহজই হতো, তাহলে আপনি প্রতি মাসে এটা দেখতেন। এটা আমার হৃদয়ে আলাদাভাবে থাকবে।’

তবে তামিমকে ট্রিপল সেঞ্চুরির চেয়েও বেশি আনন্দ দিচ্ছে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তামিমের ট্রিপল সেঞ্চুরি উপলক্ষে মাঠেই বিশেষ কেক কাটা হলো বিসিবির পক্ষে। যে রকিবুলের রেকর্ড ভেঙেছেন তামিম, সেই রকিবুল কিন্তু এদিন প্রতিপক্ষ হয়েই তামিমের কীর্তি দেখেছেন। কেক কেটে তামিমের ‍মুখে তুলে দিলেন তিনিই।

সেই কেক কাটার পর তামিম বললেন, ‘এটা বিশেষ অনুভূতি। কখনো চিন্তা করিনি আমি ট্রিপল হান্ড্রেড করব। স্বপ্ন অবশ্যই থাকে। তবে এই ম্যাচেই হয়ে যাবে কখনো ভাবিনি। তবে আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমি কীভাবে ব্যাটিং করেছি।’

‘কত রান করেছি বা আমি ট্রিপল হান্ড্রেড করেছি এটা না। সবচেয়ে বেশি আনন্দের ছিল আমি কীভাবে ব্যাটিং করেছি। সব মিলে খুশি। আশা করি এই ফর্ম আমি টেনে নিতে পারব।’

সাধারণ মনোভাব নিয়ে খেলেই এই ইনিংস বলে জানালেন ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রায় সব রেকর্ড নিজের করে নেওয়া এই তারকা। আগের দিনই ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। ২২২ রান নিয়ে নতুন দিন শুরু করেন। ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে হবে এই চিন্তাটাও তামিম মাথায় এনেছেন অনেক পরে।

জানালেন, ‘সত্যি কথা যখন ২৬০-২৭০ হয়ে গেছে তখনো এটা নিয়ে ভাবছিলাম না। ২৮০ যখন হলো তখন থেকে এটা নিয়ে ভাবা শুরু করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে যদি আমি এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করি তাহলে আমি যে প্ল্যানে খেলেছি সেটায় প্রভাব ফেলবে। আমি চেষ্টা করেছি খুব সহজ ভাবে খেলতে।’

তবে এই খুব সহজভাবে খেলার চেষ্টা করলেও কাজটা কঠিনই ছিল। কারণ দ্বিতীয় দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে উইকেট ছিল কঠিন। বল নিচু হচ্ছিল।

তামিম বললেন, ‘তুলনা করলে দ্বিতীয় দিনে উইকেট অনেক বেশি ভালো ছিল। তৃতীয় দিনে উইকেটে একটু উনিশ-বিশ হচ্ছিল। ওরকম খুব তাড়াতাড়ি বাউন্ডারিও পাচ্ছিলাম না। আমি সিঙ্গেল ও ডাবলের ওপর খেলার চেষ্টা করছিলাম।’

তামিমের রাজসিক ইনিংসে ২ উইকেটে ৫৫৫ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পূর্বাঞ্চল। প্রথম ইনিংসে ২১৩ রান করা মধ্যাঞ্চলের সামনে তাই ইনিংস পরাজয়ের চোখ রাঙানি।

৩৪২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে মধ্যাঞ্চল। ৩ উইকেটে ১১৫ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছে দলটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত