স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরিবার এখনো খোঁজে মহসীনের দেহাবশেষ

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১৫ এএম

ছেলেকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠানোর অপরাধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ ব্রাশফায়ারে হত্যা করে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার মহসীন আলীকে। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও তার দেহবাশেষ আজও খুঁজে পায়নি পরিবার। তারা এখনো খুঁজে ফেরেন মহসীন আলীর দেহাবশেষ। তবে এ নিয়ে সেই ছোট্ট মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমান মঞ্জু ও তার পরিবারের কষ্ট থাকলেও আত্মতৃপ্তি অনেক। কারণ দেশ স্বাধীনের পর (১৯৭৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে শহীদ পরিবারকে চিঠি পাঠিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। সঙ্গে পাঠান এক হাজার টাকা। সম্প্রতি চিঠিটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্র্তৃপক্ষ সংগ্রহ করে।

স্থানীয়রা জানান, বেতারে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা মঞ্জু। এদিকে ছেলেকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠানোর অপরাধে পাকিস্তানি বাহিনী মহসীনকে ব্রাশফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

মঞ্জু বলেন, ‘১৯৭১ সাল। তখন আমি একাদশ শ্রেণির ছাত্র। আমার গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে সিদ্ধান্ত নিই মুক্তি বাহিনীতে যাওয়ার। এ ক্ষেত্রে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন বাবা।’ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই আওয়ামী পরিবার, তার ওপর আবার যুদ্ধে যাওয়ার কারণে স্থানীয় রাজাকার, আলবদরদের রোষানলে পড়ে পরিবার। পরে তারা বাবাকে হত্যা করে লাশটিও গুম করে।’

চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম মালিক বলেন, ‘একজন শহীদ পরিবারকে সমাবেদনা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে লেখা চিঠি চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জন। আমরা এ নিয়ে গর্ববোধ করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত