করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে ফুল না আসায় ভালোবাসা দিবস ও বসন্তের প্রথম দিনে রাজধানীবাসীকে ফুল কিনতে গুনতে হয়েছে বাড়তি টাকা।
শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন ফুলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা এই বিশেষ দিনটিতে বাড়তি দামে ফুল কিনছেন। একটি গোলাপ স্থানভেদে ৫০, ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ফুল দিয়ে বানানো টায়রাগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়। তবে খুচরা দোকানের চেয়ে শিশু পার্ক সংলগ্ন পাইকারি বাজারে ফুলের দাম তুলনামূলক কম। ৫০টি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে সাতশ’ টাকায়।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাঘুরে দেখা গেছে, বসন্তের রঙ হলুদ পাঞ্জাবি, শাড়ি পরে তরুণ-তরুণীরা ফুলের দোকানে ভিড় করছেন। ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত গোলাপ ফুলের চাহিদা বেশি। গোলাপ ফুলের পাশাপাশি মাথায় পরার জন্য ফুলের টায়রাও কিনছেন অনেকে।
জানতে চাইলে ইয়াসিন পুষ্পালয়ের বিক্রেতা মো. জহির দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই দিবস একসঙ্গে হওয়ায় ফুল বিক্রি এবার কম হবে, তবে দামও অনেক বেশি গতবারের তুলনায়। কারণ করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীন থেকে ফুল নিয়ে আসা জাহাজ আটকে আছে।
গোলাপ ফুলতলার ফ্লাওয়ার শপের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে ফুল আসা বন্ধ থাকায় বাজারে ফুলের সরবরাহ কম। দামও আগের চেয়ে দ্বিগুণ। অন্যবার লাল-সাদা গোলাপ যে দামে বিক্রি হতো, এবার তা দ্বিগুণের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা লাগছে। আমরা প্রতি পিস গোলাপ ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি।
পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গোলাপ ফুল এবং মেয়েদের মাথার ফুলের বেণি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বলে জানান ফুলের দোকান নিউ ফুলতলার মালিক পারভেজ চৌধুরী। তিনি দেশ বলেন, গোলাপের পাশাপাশি মেয়েদের মাথার টায়রা আমরা বিক্রি করছি আশি থেকে একশ টাকায়। করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীন থেকে আসা একটি বড় ফুলের জাহাজ সাগরে আটকে আছে। দেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে ফুল নেই। তাই বেশি দামে আমাদের ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব দিবসে ফুলের দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু এত না।
শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ সময় এমনিতে ফুলের চাহিদা থাকে। আর বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের কারণে ফুলের চাহিদা অন্য সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি। খুচরা গোলাপ একটা ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। আমি দশ হাজার ফুল রেখেছি বিক্রির জন্য। এখানে ছোট-বড় সব মিলিয়ে ৫০টির মতো দোকান রয়েছে। সবাই নিজেদের মতো করে বিক্রির টার্গেট রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, এবারে বাজারে ফুলের চাহিদা অনুযায়ী ফুলের সরবরাহ অনেক কম তার অন্যতম কারণ হচ্ছে চীন থেকে ফুল না আসা।
