কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চণ্ডীপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষার্থী আচার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফুড পয়জনিং বা মাস সাইকোজেনিক ইলনেস রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা চিকিৎসকদের।
অসুস্থ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওই স্কুলের বাইরে আচার বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নাগেশ্বরী থানা-পুলিশ। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরিফা রানী জানান, পাইলট প্রকল্পের অধীন উপজেলার এ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হচ্ছে। ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। তাকে অফিস কক্ষে এনে মাথায় পানি ঢালা ঢালি করে চিনি শরবত খাওয়ানোর পরও সুস্থ না হলে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর একইভাবে আরও বেশ কয়েক জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে স্কুলের কাছে খোলা দোকানে, আচার ও ঝালমুড়ি খাওয়ায় এমনটি হতে পারে।
শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলে আসার পর অ্যাসেম্বলি শেষ করে ক্লাসে গেলে, প্রথমে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মিম অসুস্থ হয়। এর পরপরই সপ্তম শ্রেণির শিমু, সায়মা, মিম, অষ্টম শ্রেণির লুবনা, মাসুম বিল্লাহ, ববিতা, বিলকিছ, জোবায়ের, ৫ম শ্রেণির হানিফ, ৪র্থ শ্রেণির ফাহাদ, ৬ষ্ঠ শ্রেণির রুবাইয়া, দ্বিতীয় শ্রেণির আঁখিসহ ১৩ জন অসুস্থ হয়।
আচার খাওয়ার কারণে অসুস্থ হয়েছে বলেও অনেকের ধারণা। পরে আচার ও ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশন কবির জানান, আচার ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা আমান আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল আমিন মাসুদ জানান, ফুড পয়জনিং নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীরা এখন কিছুটা শঙ্কামুক্ত।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ১৩ জন শিক্ষার্থী আচার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর জেনেছি। এদের মধ্যে ৩ জনকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা শঙ্কা মুক্ত বলেও তিনি জানান।
