প্রস্তাবিত খসড়া শিক্ষা আইন-২০১৯ এ অনুশীলনমূলক বইকে ‘নোট-গাইড’ তকমা দিয়ে তা বিক্রি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিসহ ১২টি সংগঠন। দাবি আদায়ে আগামীকাল সোমবার সারা দেশে দোকান বন্ধ রেখে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে অনুশীলন বইয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে অনুশীলন বইয়ের মানোন্নয়ন ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু নোট-গাইড তকমা দিয়ে হঠাৎ নিষিদ্ধ করা হলে এ খাতের প্রায় ২৩ লাখ ১০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একেক রকম সহায়ক বা অনুশীলনমূলক বই রয়েছে। সিঙ্গাপুরে শুধু অনুশীলন বই দিয়েই লেখাপড়া চলে।’
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহ-সভাপতি কামরুল হাসান শায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন নোট-গাইড বইয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। নোট-গাইড ও অনুশীলনমূলক বই এক নয়। পাঠ্য বিষয়কে সহজবোধ্য, সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা, উন্নত উত্তর লিখন পদ্ধতিই থাকে অনুশীলন বইয়ে। এই বই বিক্রি নিষিদ্ধ করা হলে শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি কোচিং নির্ভর হয়ে পড়বে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হুমকি বয়ে আনবে।’ আইনে অনুশীলন বইয়ের সংজ্ঞা ঠিক করার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে গতানুগতিক নোট-গাইড বইয়ের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাতে অনুশীলনমূলক বইকে জড়ানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে পৃথক সংজ্ঞা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।’
