প্যারাসাইটিক টুইনের সফল অস্ত্রোপচার, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল শিশু

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:১৬ পিএম

‘প্যারাসাইটিক টুইন’ বা পরজীবী জোড়া লাগানো বাচ্চার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্বাভাবিক করা শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। 

দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হাসপাতাল পরিচালক শিশুটির পরিবারের হাতে ছাড়পত্র তুলে দেন।

গত ২৫ জানুয়ারি নোয়াখালী সদর উপজেলার এসবালিয়া গ্রামে পারভীন আক্তার ও সালাউদ্দিন দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় ছেলে শিশুটি। তবে শিশুটির শরীরের সাথে আরেকটি অপরিণত শিশুর অতিরিক্ত হাত পা ও পশ্চাদাংশ জোড়া লাগানো ছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয় শিশুটির। সফল অস্ত্রোপচারের পর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল শিশুটি।

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজল বলেন, আমরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির পরজীবী অংশ দুই হাত দুই পা ও নিতম্ব অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের শিশুকে ‘কনজেনিটাল প্যারাসাইটিক টুইন’ বা জোড়া অপূর্ণাঙ্গ যমজ বলা হয়। এটিই আমাদের প্রথম সাফল্য নয়। এর আগে ২০১৬ সালে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে এ রকম একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সেটিই প্রথম সফল অস্ত্রোপচার ছিল।

তিনি বলেন, এই শিশুটির নাম আবদুল্লাহ। তার বিষয়টি একটু ব্যতিক্রম। আবদুল্লাহর ভুঁড়ি পেটের বাইরে ছিল। বিষয়টি আমাদের জন্যও একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। একটি বাচ্চা আরেকটি বাচ্চার ওপর প্রভুত্ব স্থাপন করেছিল। পরগাছা বাচ্চাটি মূল বাচ্চাটির পুষ্টি নিয়ে নিচ্ছিল। পারগাছা অংশটিতে ৪হাত পা, কিডনি, অণ্ডকোষ, নিতম্ব ও আলাদা পায়খানা-প্রস্রাবের রাস্তা ছিল। শুধু মস্তিষ্ক ও বুকের অংশ ছিল না। আমরা শিশুটির সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। আবদুল্লাহর ভেতরে আর কোনো অতিরিক্ত অর্গান নেই। সে বড় হলেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। সে এখন সুস্থ ও মায়ের দুধ খাচ্ছে।

শিশুটির বাবা সালাউদ্দিন জানান, স্বাভাবিক ভাবেই বাড়িতে জন্ম নেয় শিশুটি। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৮ জানুয়ারি তাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেডিকেলে। এখানেই তার অপারেশন করা হয়।

তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী ও মা গৃহিণী। এটিই তাদের প্রথম সন্তান। আবদুল্লাহর সফল অস্ত্রোপচার হওয়ায় ঢামেক পরিচালক ও চিকিৎসকদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, এটি একটি বিরল সার্জারি হয়েছে। বাংলাদেশে এই ধরনের ২য় শিশুর অস্ত্রোপচার এটি। প্রথম থেকেই এটি খুব জটিল একটি অস্ত্রোপচার ছিল। এ জন্য আগাম মিডিয়াকে কিছু বলতে পারিনি। ১৬ ফেব্রুয়ারি শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হয়। এটি আমাদের স্বাস্থ্য সেবায় বড় ধরনের সাফল্য। অনেক রকম সীমাবদ্ধতাও এটি সফলতার প্রমাণ করে। আমরা শিশুটির জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত