সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন ২২ কাউন্সিলর। বুধবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরীর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে তারা অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন।
এতে মেয়রকে অপসারণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, স্থানীয় সরকার সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককেও দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগপত্রে সাক্ষরকারী ২২ জনের মধ্যে ১০ জন কাউন্সিলর বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেছেন, অন্য একটি আবেদনের জন্য কিছুদিন আগে তারা যে কাগজে সাক্ষর করেছিলেন, তা তাদের না জানিয়ে উক্ত অভিযোগপত্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ১০ জনসহ ২৩ কাউন্সিলর পৃথক আরেক বিবৃতিতে মেয়রের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, এসব অভিযোগ মনগড়া ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য মানহানিকর।
সিটি মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা সিলেটে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
সিটি করপোরেশনে মোট কাউন্সিলর ৩৬ জন।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিসিকের সাধারণ সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা না করেই পরিষদকে উপেক্ষা করে দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নের বানেশ্বরপুর মৌজায় জমি অধিগ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে টাকার বিনিময়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিভিন্ন শাখায় লোক নিয়োগ করা হয়েছে। মেয়র তার ব্যক্তিগত স্বার্থে সিটির টাকায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। এ ছাড়া মেয়র বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্য করছেন।
এ জন্য তারা মেয়রের অপসারণ দাবি করেন।
অভিযোগপত্রে সাক্ষরকারী কাউন্সিলররা হলেন তৌফিক বক্স লিপন, তারেক উদ্দিন তাজ, একেএম লায়েক, আজাদুর রহমান আজাদ, শান্তনু দত্ত শন্তু, তাকবিরুল ইসলাম পিন্টু, নজরুল ইসলাম মুনিম, আবদুল মুহিত জাবেদ, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, আবদুর রকিব তুহিন, ছয়ফুল আমিন বাকের, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, মোস্তাক আহমদ, মখলিছুর রহমান কামরান, এসএম শওকত আমিন তৌহিদ, ইলিয়াছুর রহমান, রকিবুল ইসলাম ঝলক, সিকন্দর আলী, সোহেল আহমদ রিপন, মাসুদা সুলতানা, নাজনিন আক্তার কনা ও রেবেকা আক্তার লাকী।
তবে বিবৃতিতে স্বাক্ষর আছে এমন ১০ কাউন্সিলর নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
তারা বলেছেন, সম্প্রতি ওয়ার্ডের উন্নয়নবিষয়ক একটি আবেদনের জন্য তারা যে সাক্ষর দিয়েছিলেন, সম্পূর্ণ অন্যায্যভাবে তা অভিযোগপত্রে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এর প্রতিবাদ জানিয়ে মেয়রের নেতৃত্বে একযোগে কাজ করে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ১০ কাউন্সিলর হলেন, নজরুল ইসলাম মুনিম, শান্তনু দত্ত শন্তু, মাসুদা সুলতানা, রেবেকা আক্তার লাকী, সিকন্দর আলী, এসএম শওকত আমিন তৌহিদ, আবদুর রকিব তুহিন, মখলিছুর রহমান কামরান, নাজনিন আক্তার কনা ও সোহেল আহমদ রিপন।
তাদের পাশাপাশি আরো ১৩ কাউন্সিলরও যৌথ আরেকটি বিবৃতিতে মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে এর নিন্দা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
