মাদ্রাসাশিক্ষকের থাপ্পড়ে শ্রবণশক্তি হারাল শিশু

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ০৯:৫০ পিএম

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বন্ধন তালিমুল কোরআন নুরানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আমিরুল ইসলাম থাপ্পড় দিয়ে শ্রবণশক্তি নষ্ট করেছেন এক শিশুর। প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছয় বছর বয়সী শিশুর কানের পর্দা ফাটানোর এ ঘটনা ঘটে গত সোমবার সকালে।

শিশুটির বাবার দাবি, এ মাদ্রাসায় প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তার জানা মতে, রুপনাই ও আশপাশের এলাকার ১৫ থেকে ২০ জন শিশু শিক্ষার্থী শিক্ষকের নির্যাতনে মাদ্রাসা ত্যাগ করেছে। প্রতিনিয়ত এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করে নির্যাতন আতঙ্ক। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক এই নির্যাতন চলছে। এক বছর আগে এ এলাকার এক শিশুকে নির্মম নির্যাতনের কারণে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।

তিনি জানান, গত সোমবার তার সন্তানকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ক্লাসে বসা নিয়ে শিশুরা দুষ্টুমি করায় মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা আমিরুল ইসলাম তার সন্তানের কানে সজোরে থাপ্পড় দেন। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে সে বাড়ি চলে আসে। এরপর রাতে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার কান দিয়ে এ সময় রক্ত ঝরতে থাকে। দ্রুত তাকে সিরাজগঞ্জের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. শফিউল ইসলাম পরীক্ষা করে জানান, প্রচণ্ড আঘাতের কারণে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। ফলে সে আর কানে শুনতে পারছে না। চিকিৎসা শেষে গতকাল বুধবার সকালে তাকে বাড়ি আনা হয়।

মাওলানা আমিরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, ঘটনার দিন বসা নিয়ে শিশুরা চেঁচামেচি ও দুষ্টুমি করছিল। এটা থামাতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বিষয়টি মীমাংসার পর্যায়ে রয়েছে।

বন্ধন তালিমুল কোরআন নুরানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী বাবুল মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগেও এ রকম ঘটনার দায়ে এক শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। মাওলানা আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রহমত উল্লাহ জানান, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত