তিন বছরেও নির্মাণ হয়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২০, ১২:১৮ এএম

লালমনিরহাট পৌরসভার উত্তর সাপটানা সখেরবাজার কুমরপাড়া গ্রামে খালের ওপর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি তিন বছরেও নির্মাণ হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ১১ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধরলা নদীর পানির তোড়ে ওই সেতুটি ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। পানি নেমে গেলে এলাকাবাসী বাঁশ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। ওই সাঁকো দিয়ে এলাকার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছে। কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থী ও কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী বাঁশের সাঁকো থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেতু না থাকায় এখানকার ১১টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পাশের কুলাঘাট, ভাটিবাড়ি, মোগলহাট, মেগারাম ও বড়বাড়ি বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। তাদের অনেক দূর ঘুরে কৃষিপণ্য পরিবহন করে বাজারে নিতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য পেলেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকরা।

এলাকাবাসী জানায়, গত এক মাসে নারী, শিশুসহ কমপক্ষে ১০ জন মোটরসাইকেল আরোহী ওই বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। মাঝেমধ্যে কোনো না কোনো শিশুশিক্ষার্থী সাঁকো থেকে পড়ে আহত যাচ্ছে। বর্তমানে সাঁকোটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসী আশরাফুল ইসলাম জানান, সাঁকোটির পাশে পৌরসভা কর্র্তৃক কোটি টাকা ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব ময়লার ডাম্পিং তৈরি করেছে। কিন্তু পৌরসভা ১১টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার এই ছোট সেতুটি নির্মাণ করছে না। এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌরসভার মেয়র, স্থানীয় এমপিসহ মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছে। কিন্তু আবেদনের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি নির্মাণ হয়নি।

তবে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু জানান, সেতুটি পৌরসভার ভেতরে পড়েছে ঠিকই কিন্তু রাস্তাটি পৌরসভার নয়। এটি এলজিইডির রাস্তা। তাই এখানে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব এলজিইডি কর্র্তৃপক্ষের। পৌরসভার পক্ষ থেকে এলজিইডিকে পত্র দিয়ে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খান জানান, বরাদ্দের অভাবে এখানে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে প্রজেক্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত