গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র ইব্রাহিম হোসেন (৮) হত্যায় তার মামাতো ভাই বনি আমিনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র¨াব। গত শনিবার রাতে ঢাকার হাজারীবাগে মামার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার র্যাব গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর বনি আমিন হত্যার কথা স্বীকার করেছে। মামা-মামির ওপর ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নিতে তাদের সন্তানকে ৫ মার্চ গাজীপুরের সালনার মীরেরগাঁও এলাকায় এনে শ্বাসরোধে হত্যা করে খালের পানিতে রেখে যায়। এরপর শনিবার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবার হত্যা মামলা করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে বনি আমিন র¨াবকে জানায়, ২০১৬ সালে মামা মনির হোসেন বরগুনা থেকে এনে তাকে হাজারীবাগে নিজের ক্রোকারিজের দোকানে কাজ দেন। থাকা-খাওয়া বাদে মাসে চার হাজার টাকা দিতেন। একই দোকানের কর্মচারী ছিল মনিরের স্ত্রী হালিমা বেগমের বোনের ছেলে। তাকে বিদায় করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে মামার দোকান ছেড়ে দেয় বনি আমিন। দুই বছর পর আবারও যোগ দেয়। সম্প্রতি মামার সঙ্গে ঝগড়া হলে চলে যায় এবং মামা-মামির ওপর ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নিতে মামাতো ভাই হাজারীবাগের ইকরা দারুল উলুম মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইব্রাহিম হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বনি আমিন ৫ মার্চ দুপুরে মামা অসুস্থ বলে ইব্রাহিমকে মাদ্রাসা থেকে সালনার মীরেরগাঁও নিয়ে আসে। সেখানে রেললাইনের পাশে রাত সাড়ে ৭টার দিকে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেয়। কিছুদূর আসার পর আজান হলে সালনার একটি মসজিদে বনি আমিন এশার নামাজ আদায় করে। ওই রাতেই সে ঢাকার মান্ডায় ফেরে, পরের দিন সকালে মামার বাসায় যায়। এরপর বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে কণ্ঠ নকল করে ইব্রাহিমকে অপহরণের কথা জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিকাশের মাধ্যমে মামা ১০ হাজার টাকাও দেন। এরই মধ্যে শনিবার লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে বনি আমিন মামা-মামির সঙ্গে কান্নাকাটিও করে। সন্দেহ এড়াতে আজিমপুর কবরস্থানে জানাজা শেষে নিজ হাতে লাশ দাফনও করে সে।
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তির সাহায্যে শিশু ইব্রাহিম খুনে বনি আমিনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে মামার বাসা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি বরগুনা সদরের মইঠা গ্রামে, বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ।
