সেচ স্কিম চালাতে অনীহায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের তিনটি বিলে এক হাজার একরের বেশি জমিতে ইরি-বোরো চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মৌসুমের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাকৃতিক উৎস থেকে সেচব্যবস্থায় কোদালা ইউনিয়নের সরদার বিল, হিন্দুপাড়া বিল ও পূর্ব কোদালা বিলে বীজতলা তৈরি ও রোপণ দেওয়ার সুযোগ হয়। বাকি জমিতে সেচপাম্পের মাধ্যমে পানি সেচের ব্যবস্থায় ইরি-বোরো মৌসুমের চাষাবাদ হয়ে থাকে। শেষপর্যায়ে পাম্প মেশিনে প্রয়োজনীয় সেচব্যবস্থার ওপর উভয় পর্যায়ের চাষাবাদে ফসল উৎপাদন নির্ভর করে। চলতি মৌসুমে যথাসময়ে পাম্প মেশিন স্থাপন না করায় বিলগুলোতে চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কৃষক প্রতিনিধি ও ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে বৈঠকে নির্ধারিত সেচ করের সিদ্ধান্ত মানছে না সেচ স্কিম পরিচালনা কমিটি। চাষাবাদকে জিম্মি করে অস্বাভাবিক হারে সেচ কর আদায়ের পাঁয়তারা করছে সেচ পরিচালনা কর্র্তৃপক্ষ।
কৃষকেরা অভিযোগ করেন, সার্বিক বিবেচনায় কৃষিতে সেচ কর নির্ধারণের নিয়ম থাকলেও এলাকায় চাষাবাদে পানি সেচের ব্যবস্থা এখন বাণিজ্যিক হয়ে উঠেছে। সেচ স্কিমকে অতিরিক্ত মুনাফাজনক করতে স্কিমের ম্যানেজাররা বিলে ইরি-বোরো চাষাবাদকে জিম্মি করে রাখছে। বিঘাপ্রতি ১ হাজার টাকার স্থলে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করে সেচ বন্ধ রাখা হয়েছে।
কোদালা ইউপি সদস্য সুলতান আহমেদ এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও শিক্ষক বদিউল আলম জানান, কর্ণফুলী নদী থেকে সহজলভ্য পানি সেচব্যবস্থায় কোদালা ইউনিয়নের বিলগুলোতে মৌসুমের ইরি-বোরো চাষাবাদ হয়। চাষাবাদের কল্যাণে স্কিম পরিচালনার নিয়ম হলেও বর্তমানে নদীর পানি স্কিম ম্যানেজারদের বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। সেচ স্কিম পরিচালনায় বছর বছর অস্বাভাবিক দর নির্ধারণে চাষাবাদকে লোকসানমুখী করা হচ্ছে। স্কিম ম্যানেজারদের স্বেচ্ছাচারিতায় কোদালা বিলের সহস্রাধিক কৃষক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
কোদালা পূর্ব বিলের কৃষক আবদুস সালাম, ফজলুল হক, আবদুল কাদেরসহ অন্য কৃষকরা জানান, নির্দিষ্ট সময়ে জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদের জন্য আগাম বীজতলা তৈরিসহ চারা উৎপাদন করেছেন। প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি সেচের ব্যবস্থায় অনেক জমিতে রোপা লাগিয়েছেন তারা। কিন্তু বিলে সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়নি। খরা মৌসুমে প্রয়োজনীয় সেচ নিশ্চিত হয়নি। তাই বিলের জমিতে ইরি-বোরো ফসল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চাষাবাদে প্রতিবন্ধকতায় কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা প্রকাশ দত্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সেচব্যবস্থা না হওয়ায় বিলগুলোতে ইরি-বোরো চাষাবাদে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকরা।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, কৃষকদের অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
