সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নৃশংস কায়দায় পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়া হত্যা মামলায় শিশু আদালতে বিচারাধীন মামলায় আসামি শাহরিয়ার আহমদ প্রকাশ শাহারুলের (১৭) ৮ বছর কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।
আসামি শাহারুল নিহত তুহিনের আপন চাচাতো ভাই। মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ রায় দেন।
সুনামগঞ্জ শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে শাহরিয়ার আহমদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং সে শিশু হওয়ায় তাকে আট বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।
১৮ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত সে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে থাকবে। পরে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার কার্যক্রম ও রায় দ্রুত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
পুলিশ তুহিন হত্যা মামলায় গত ৩০ ডিসেম্বর শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে বাবা চাচাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
এরপর আদালতে অভিযোগ গঠন হয় ৭ জানুয়ারি। এ মামলায় আদালতে ২৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তুহিন হত্যার ঘটনায় তার মা মনিরা বেগমের দায়ের করায় মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে তার চাচাতো ভাই শাহরিয়ার আহমদ শিশু হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে হয়েছে। একই মামলায় আরও চার অভিযুক্ত তুহিনের বাবা আবদুল বাছির (৪০), তিন চাচা নাসির উদ্দিন (৩৫), আবদুল মছব্বির (৪৫) ও জমসেদ আলীর (৬০) বিচার হচ্ছে সুনামগঞ্জে দায়রা জজ আদালতে। ওই আদালতে মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য আছে আগামী ১৬ মার্চ।
প্রসঙ্গত গত বছরের ১৪ অক্টোবর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছের ঢালে ঝুলন্ত অবস্থায় তুহিনের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তুহিনের গলা, দুই কান ও যৌনাঙ্গ কাটা ছিল। পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ছুরি।
এ ঘটনায় তুহিনের মা মনিরা বেগম বাদী হয়ে পরদিন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মালায় পুলিশ তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা নাসির উদ্দিন, আবদুল মছব্বির ও জমসেদ আলী এবং চাচাতো ভাই সাহারুল ইসলাম ওরফে শাহরিয়ার গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে চাচা নাসির ও শাহারুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
