ভালো ফলনেও পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাবনার চাষিরা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২০, ১২:১০ এএম

অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের পরও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পেঁয়াজ ভান্ডারখ্যাত পাবনা জেলার চাষিরা। মার্চের শুরুতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে চারা পেঁয়াজ, কমেছে দাম।

চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ ও অনুকূল আবহাওয়াসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনায় কৃষি বিভাগ আশা করছে এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়াবে। পুরোদমে পেঁয়াজ বাজারে এলে এর সংকট থাকবে না। তবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আমদানি বন্ধ ও সংরক্ষণে সরকারি সহযোগিতা চান চাষিরা।

গত বৃহস্পতিবার সকালে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বোয়ালমারী হাটে গিয়ে দেখা যায় নতুন ওঠা প্রতিমণ চারা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায়। দাম কমার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকায়। কৃষি বিভাগ জানায়, দেশের মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের এক তৃতীয়াংশ সরবরাহ হয় পাবনা থেকে। চলতি মৌসুমে পাবনার গাজনার বিল, ঘুঘুদহ বিলসহ নয় উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ১২ মেট্রিক ট্রন ধরে জেলায় চারা পেঁয়াজ উৎপাদন ৬ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে।

সুজানগর উপজেলার উলাট গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ ক্ষেতে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় দম ফেলার ফুরসত নেই চাষিদের। যারা আগাম পেঁয়াজ বুনেছেন তারা ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চাষিরা জানান মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই চারা পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে চৈত্র মাসে পুরোদমে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তোলা হবে।

উলাট গ্রামের কৃষক ওমর আলী জানান, গত মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফলন ভালো হয়নি। পাশাপাশি বৃষ্টিতে ভেজা পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় সংরক্ষণ করতে পারেননি চাষিরা। তবে এবার বাজারদর ভালো, তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। অনেকেই ধান চাষ বাদ দিয়ে লাভের আশায় পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। এ পর্যন্ত ক্ষেতের যে অবস্থা তাতে বাম্পার ফলন হবে বলেই ধারণা চাষিদের।

তবে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

পেঁয়াজচাষি জিয়া উদ্দিন জানান, প্রতি মণ পেঁয়াজ চাষে খরচ ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় উত্তোলন মৌসুমে কমদামে পেঁয়াজ বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয় তাদের। রমজান মাস সামনে রেখে সরকার পেঁয়াজ আমদানি করলে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে।

মানিকহাট ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, প্রতি বছর যখন পেঁয়াজ ওঠে তখনই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির কারণে দাম কমে যায়। এ ছাড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় একসঙ্গে কৃষকদের কমদামে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হয়। সরকার আলু, ধানসহ বিভিন্ন ফসল সংরক্ষণে ব্যবস্থা নিয়েছে। এমন ব্যবস্থা পেঁয়াজের জন্য করা হলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে, পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও বাজারে কারসাজি করতে পারবে না। বড় পরিসরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ও সরকারি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার এমন দাবিকে যৌক্তিক মনে করছে কৃষি বিভাগও।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি পাবনার উপপরিচালক আজাহার আলী জানান, চলতি মৌসুমে যে ভালো মানের পেঁয়াজ ব্যাপক পরিমাণে উৎপাদিত হয়েছে তাতে রমজানেও পেঁয়াজ আমাদানির প্রয়োজন নেই। কৃষি বিভাগ পেঁয়াজে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন, প্রশিক্ষণ, সহযোগিতাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি যেসব এলাকায় পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন হয় সেখানে বড় পরিসরে আধুনিক সংরক্ষণাগার তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত