শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২০, ০৩:৫০ এএম

করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হলে আক্রান্তদের বৃহৎ পরিসরে চিকিৎসায় টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ধর্ম ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বলেছি, তাবলিগ জামাত যেখানে হয় সে জায়গাটাও প্রস্তুত রাখা, অবকাঠামো ঠিক রাখা এবং আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য। পরিস্থিতি ওই রকম হলে যাতে ওই জায়গাগুলো আমরা ব্যবহার করতে পারি।

মন্ত্রী আরও বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর চারটি হাসপাতালসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় উপায় শীর্ষক এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রম, বিমান, সমাজকল্যাণ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য ১৮টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়র সচিব, সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় উপায় নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে দেশে করোনাভাইরাস অধিক হারে চলে এলে কী করা হবে, কোন মন্ত্রণালয় কী কাজ করবে সে বিষয়ে উপস্থিত প্রতিনিধিদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশনা দেন। করোনাভাইরাসে দেশ আক্রান্ত হলে কীভাবে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহার করা হবে, শিল্প-গার্মেন্টস ব্যবহারে করণীয় বিষয়াদি, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, মসজিদ-মন্দিরে স্বল্প সময়ে জমায়েত হওয়া, মার্কেট প্লেস, শপিংমল, রাজনৈতিক সমাবেশ পরিহারে করণীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে না খোলা রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেবে। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্যানিটাইজার সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, স্কুল ছুটির পর যেন বেঞ্চগুলো মুছে ফেলা হয়, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন।

বৈঠকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ধর্ম, শিল্প, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, সভা থেকে শিল্প এবং শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাস, ট্রেন বা নৌযানে চলাচলের সময় যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর যানবাহন যেন জীবাণুমুক্ত করা হয়, সে জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারও জ্বর থাকলে কোনোভাবেই যানবাহনে যাতায়াত না করতে বলা হয়েছে।

এমনকি বৈঠকে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে বাধ্যতামূলক ছুটি দিতে বলা হয়েছে। পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত এক নির্দেশ জারি করে। সেখানে সংক্রমিত ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। গতকালের বৈঠকে এ নিয়েও আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে চাই। এ কারণে গত দুমাস যাবৎ পরিশ্রম করছি। দেশের জনগণকে করোনা সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে কী করণীয়, সে ব্যাপারে পরামর্শ ও তা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের মসজিদে না আসার অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়কে বলেছি, আমাদের দেশে এই মুহূর্তে যাতে ওয়াজ মাহফিল বা অন্যান্য ধর্মের যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় এগুলো থেকে যাতে বিরত থাকে। তাতে হয়তো সংক্রমণটা আরও কমবে এবং কমার সম্ভাবনা থাকবে। এই বিষয়গুলোর প্রচার-প্রচারণা মসজিদের মাধ্যমে করতে হবে।

বিদেশফেরতদের মসজিদে না আসার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে জানেন যে, ওমরা ভিসা বন্ধ হয়ে গেছে। মক্কায় কোয়াব সংখ্যাও খুবই সীমিত হয়ে গেছে। কাজেই আমাদের এখানে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা কম এলে ভালো হয় এবং যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তারা যেন না আসেন মসজিদে এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরা যাতে না আসেন। এই বিষয়ে আমরা পরামর্শ দিয়েছি। আপাতত সর্দি, কাশি ও জ্বর থাকলে গণপরিবহনে ভ্রমণ না করারও অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারও যদি শরীরে জ্বর থাকে তারা যেন কোনো যানবাহন ব্যবহার না করেন। সর্দি-জ্বর-কাশি সেরে যাওয়ার পর তারা ভ্রমণ করবেন এবং যানবাহন ব্যবহার করবেন।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রত্যাশা জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, চীন থেকে এই ভাইরাসের উপদ্রব শুরু হলেও এখন পুরো ইউরোপ এ ভাইরাসে জর্জরিত। আমেরিকায়ও শুরু হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশেও আমরা নতুন রোগী পেয়েছি। কাজেই এখন বলতে পারি না যে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস নেই। আছে এবং ছড়িয়ে যাতে না যায় সেদিকে আমরা বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি।

শিল্প ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও সভায় ছিলেন জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে বলা হয়েছে যে, যাদের আত্মীয়-স্বজন বিদেশে রয়েছে তারা যাতে খুব জরুরি না হলে এই মুহূর্তে দেশে না আসেন। কারণ তারাই তো করোনাভাইরাস দেশে নিয়ে এলেন। এই ভাইরাস আরও বেশি যাতে ছড়িয়ে না যায় সেজন্য আমরা তাদের বলেছি, মোবাইলের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন দূতাবাসের মাধ্যমে এই খবরটি দেওয়ার জন্য।

বাস, রেল ও লঞ্চে যারা চলাচল করেন তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে যাতে সতর্কতা নেওয়া হয়, যাত্রীরা যাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন এবং যাত্রীরা চলে যাওয়ার পরে বাসা, রেল ও লঞ্চ যাতে পরিষ্কার করা হয়। এসব বিষয় রেল ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

বস্তিবাসীদের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের প্রতিকারমূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে কয়েকটি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত