বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক বাড়ি ফিরছে পুরোনো আদলে

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২০, ০১:২৭ পিএম

শৈশবের দুরন্ত মুজিব। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গ্রামে শেখ লুৎফর রহমান ও শায়েরা খাতুনের ঘরে জন্ম নেন তিনি। বাবা-মা আদর করে ডাকতেন খোকা। সেই খোকাই হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর আদি পৈতৃক বাড়িটি পুরোনো আদলে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয় গেল বছরের নভেম্বর মাসে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে বাড়িটির সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উপপরিচালক আমিরুজ্জামান পলাশ ও সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ কাজটি তত্ত্বাবধান করছেন।

এদিকে, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বাড়িটিতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। প্রতিদিনই এ বাড়ি দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা।

শেখ পরিবার সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর শৈশব-কৈশোর কেটেছে এ বাড়িতেই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেক ইতিহাসের সাক্ষীও এ বাড়িটি।

৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকে বাড়িটি। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বাড়িটি সংস্কার করা হয়।

গত ৮ বছর আগে জরাজীর্ণ বাড়িটি আবারও সংস্কার করা হলে কাঠামোগত পরিবর্ত হয়।

image

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ জানান, প্রায় ৮ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটি সংস্কার করে। এতে বাড়িটির পুরোনো আদলে বেশ পরিবর্তন আসে।

পরে বাড়িটি পুরোনো আদলে ফিরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রকৌশলীরা টুঙ্গিপাড়া এসে এ বাড়ির পুরোনো ছবি ও ভবনের নির্মাণশৈলী দেখে পুরোনো আদলে ফিরিয়ে দিতে একাধিক নকশা প্রণয়ন করেন।

এগুলো পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ওই নকশার আদলে বাড়িটি সংস্কার করার অনুমতি দেন। সে মোতাবেক বাড়িটি পুরোনো আদলে ফিরিয়ে আনার নমুনা কাজ চলছে।

এ নমুনা আবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। সেটি দেখে অনুমোদন দিলেই চূড়ান্ত কাজ করা হবে।

তবে, এখন পর্যন্ত বাড়িটির সংস্কার কাজ সন্তোষজনক। বাড়িটি সাজানো হয়েছে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে।

টুঙ্গিপাড়ার শেখ বাড়ির শেখ বোরহান উদ্দিন জানান, প্রায় সাড়ে ৩শ' বছর আগে বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষ জমিদার শেখ কুদরতউল্লাহ টুঙ্গিপাড়ায় এ বাড়িটি নির্মাণ করেন। সেগুন কাঠের তৈরি বাড়িটিতে অত্যাধুনিক কারুকাজের ১২টি পিলার রয়েছে।

এ বাড়ি তখন এ অঞ্চলের মধ্যে অনন্য স্থাপত্যশিল্প হিসেবে পরিগণিত হতো। এ অঞ্চলে আগত মানুষ বাড়িটির নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ হতো।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই বাড়ির সঙ্গে।

দীর্ঘদিন বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। টুঙ্গিপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী এ বাড়িটি দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ আসেন।

বাড়িটি পুরোনো আদলে ফিরে এলে আরও আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, গত ৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু পূর্বপুরুষের আদি আবাসস্থলের প্রাচীন ভবন সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজসহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শিশুকাল থেকে বেড়ে ওঠা যেসব জায়গা রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে আদি রূপে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত