প্রেমিকার সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠায় বন্ধুকে খুন

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ০৭:২১ পিএম

যশোরে বন্ধুর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছে এক যুবক। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে হত্যার দৃশ্য। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুর সখ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে এ হত্যাকাণ্ড।

মঙ্গলবার সকালে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পলাশীতে ঘটনাটি ঘটেছে ।

নিহত ইকলাস হোসেন নয়ন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।  নয়ন সদর উপজেলার রুদ্রপুরে নানা বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতো। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নয়নের বন্ধু মৃদুল মণিরামপুর উপজেলার এড়েন্দা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।  

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নয়নের নানা আজহার আলী বাদী হয়ে মৃদুলকে প্রধান করে অজ্ঞাত আরও তিন জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মণিরামপুরের খেদাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সালাহ উদ্দিন জানান, ইকলাস হোসেন নয়ন রুদ্রপুর গ্রামে নানাবাড়ি থেকে লেখাপড়া করে আসছিল। সে রুদ্রপুর কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে নয়নের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মৃদুল পলাশী কলেজের একই শ্রেণির শিক্ষার্থী। মৃদুলের সঙ্গে কলেজের এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বছরখানেক যেতে না যেতেই ওই ছাত্রীর সঙ্গে মৃদুলের সম্পর্কের অবনতি হয়। কিন্তু ওই ছাত্রীর সঙ্গে নয়নের সখ্য অব্যাহত ছিল। এ নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিবাদ দেখা দেয়।

নয়নের নানা আজহার আলী জানান, প্রতিদিনের মতো নয়ন মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে পাশের মনিরামপুরের বাসুদেবপুর গ্রামের শিক্ষক ইব্রাহিম হোসেনের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে বের হয়। সকাল সাতটার দিকে পলাশী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদের সামনে নয়নের লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী তাকে খবর দেয়।

মণিরামপুর থানার ওসি মতিয়ার শিকদার জানান, পলাশী স্কুলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করে দেখা যায়, রাস্তা থেকে নয়নকে তার বন্ধু মৃদুল ধরে টানতে টানতে স্কুলের প্রাচীরের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে মৃদুল বেধড়ক মারপিটের একপর্যায়ে নয়নের মাথা ধরে দেওয়ালে আঘাত করতে থাকে। এ সময় নয়ন অচেতন হয়ে পড়লে শ্বাসরোধে হত্যার পর মৃদুল লাশ টানতে টানতে প্রাচীরের বাইরে মসজিদের সামনে ফেলে চলে যায়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ইকলাস হোসেন নয়নের নানা আজহার আলী বাদী হয়ে মৃদুলকে প্রধান করে অজ্ঞাত আরও তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ ঘাতক মৃদুলসহ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত