ঘরে বসে করোনা পরীক্ষার পদ্ধতিটি দেবী শেঠির নয়, ড. সন্তোষ জ্যাকবের

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ১১:০৬ পিএম

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে ভারতের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. দেবী শেঠির অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ার খবর সঠিক নয়। অডিওটি আরেক ভারতীয় চিকিৎসক সন্তোষ জ্যাকবের। 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র বাংলা সংস্করণ 'এই সময়' প্রথমে এই অডিও দেবী শেঠির উল্লেখ করে একটি প্রতিবেন প্রকাশ করে। 

পরে 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র অনুসন্ধানে জানা যায়, হোয়াটস অ্যাপ থেকে প্রথম প্রচার হওয়া অডিওটি ভারতীয় অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. সন্তোষ জ্যাকবের। 

তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, 'হ্যাঁ অডিওতে শুনতে পাওয়া গলার স্বর আমারই। এটা আসলে ছিল আমার রোটারি গ্রুপের সদস্যদের জন্য। আমি রোটারি ক্লাব অব গুন্ডির একজন সদস্য। আমার গ্রুপের অনেক সদস্য খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন করোনার লক্ষণ ও পরীক্ষা নিয়ে, কারণ এসব বিষয়ে পরিষ্কার কোনো চিত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। সে জন্য আমি ওই অডিও বার্তাটি শুধু আমার রোটারি সদস্যদের জন্য তৈরি করেছিলাম'।

যদিও দেবী শেঠির নামেই অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হয়।

অডিও বার্তায় ডা. সন্তোষ জ্যাকব বলেন, ‘যদি কারো ফ্লু বা সর্দি থাকে, প্রথমে নিজেকে আইসোলেট করে লক্ষণ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রথম দিন শুধু ক্লান্তি আসবে। তৃতীয় দিন হালকা জ্বর অনুভব হবে। সঙ্গে কাশি ও গলায় সমস্যা হবে। পঞ্চম দিন পর্যন্ত মাথা যন্ত্রণা। পেটের সমস্যাও হতে পারে। ষষ্ঠ বা সপ্তম দিনে শরীরে ব্যথা বাড়বে এবং মাথা যন্ত্রণা কমতে থাকবে। তবে ডায়েরিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পেটের সমস্যা থেকে যাবে। এবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অষ্টম ও নবম দিনে সব লক্ষণই চলে যাবে। তবে সর্দির প্রভাব বাড়তে থাকে। এর অর্থ আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে এবং আপনার আশঙ্কার প্রয়োজন নেই’।

তিনি বলেন, ‘এমন সময়ে আপনার করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। কারণ আপনার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। যদি অষ্টম বা নবম দিনে আপনার শরীর আরো খারাপ হয়, করোনা হেল্পলাইনে ফোন করে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিন’।

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের কাছে এ মুহূর্তে দেড় লাখ পরীক্ষার কিট রয়েছে। এবং সর্বোচ্চ দেড় কোটির পরীক্ষা সম্ভব। তাই জ্বর হওয়ার দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনেই প্রত্যেকেরই করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। এতে আরো বড় সমস্যা হবে’।

সন্তোষ জ্যাকব বলেন, ‘আমার পরামর্শ হলো, জ্বর হলেই করোনার পরীক্ষা নয়। আগে অপেক্ষা করে উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করুন। খারাপ হলে নিজেকে পরীক্ষা করিয়ে নিন’।

অত্যাধিক মাস্ক বিক্রির জেরে তার হাসপাতালেও ‘N95 মাস্ক’র অভাব জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, ‘আপনি ভয় পেয়েছেন বলে পরীক্ষা করা উচিত নয়’।

খবর: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত