সরকারি হাসপাতালের গাফিলতি: সড়কে নারী শ্রমিকদের বেষ্টনীতে সন্তান প্রসব

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ০৪:৪৬ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি হাসপাতালের গাফিলতিতে সড়কেই নারী শ্রমিকদের সহায়তায় সন্তান প্রসব করেছেন এক মা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর ওই নারীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠানো করা হয়। সেখানে যাওয়ার পথে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন রাজিয়া খাতুন (২২)।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভার ব্রিজের নিচে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছামাদ ভালুকা শেফার্ড মিলে ফল্ডিং পদে চাকরি করেন। একই মিলে তার স্ত্রী রাজিয়া খাতুনও চাকরি করেন। তারা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা এলাকার মঞ্জিলা খাতুনের বাসায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন। আব্দুস ছামাদের স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের (২২) প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। রাজিয়াকে দেখে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অমিত কুমার রায় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য খোদেজা হালিম হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান।

এ সময় কর্তব্যরত নার্স শামীমা খাতুন ওই ক্লিনিকে ফোন করে বলেন, আল্ট্রাসনোর জন্য রোগী পাঠাচ্ছি। ক্লিনিক থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রাজিয়াকে নিয়ে আবার হাসপাতালে আসলে নার্স শামীমা আল্ট্রাসনোর প্রতিবেদন দেখে রোগীর স্বামীকে বলেন, রাজিয়াকে ময়মনসিংহ নিয়ে যেতে।

আব্দুস ছামাদ জানান, কোনো উপায় না দেখে রিকশায় তারা ভালুকা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আসেন। সেখানে স্ত্রী ও শাশুড়ি মোমেনা আক্তারকে দাঁড় করিয়ে তিনি গাড়ির খোঁজে বাসস্ট্যান্ডে গেলে রাজিয়ার প্রসব ব্যথা ওঠে। এ সময় ক্রাউন ওয়্যারস (প্রা.) লিমিটেডের ১০/১২ নারী শ্রমিক চারপাশ থেকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আড়াল তৈরি করেন। ওই কারখানার শ্রমিক সুমার সহযোগিতায় রাজিয়া ছেলে সন্তান প্রসব করেন। রাজিয়ার রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ স্থানীয়রা আবারো ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে মা ও ছেলে ভালো আছে।

রাস্তায় সন্তান প্রসব হওয়ার খবরে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ও ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

খোদেজা হালিম হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, রাজিয়ার বর্তমানে ৩৪ সপ্তাহ পাঁচ দিন চলছে। সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দিয়েছে এপ্রিলের ২৪ তারিখের এক সপ্তাহে আগে অথবা পরে। আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন ডা. মো. এম রহমান।

নার্স শামীমা আক্তার জানান, আমি আল্ট্রার রিপোর্ট দেখে রোগীকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছি। এটা আমার ভুল হয়েছে।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা.অমিত কুমার রায় জানান, আমি রোগীকে ময়মনসিংহ রেফার্ড করিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোহেলী শারমিন জানান, আমি খবর পেয়েছি হাসপাতালের বাইয়ে একটি বাচ্চা হয়েছে। এখন মা ও নবজাতক ভালো আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত