নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশে নানা রকম সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হলেও সঠিক নির্দেশনার অভাবে কেউ কেউ সচেতন করতে গিয়ে না বুঝে উল্টোটাও করছেন। আবার কেউ কেউ চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকতে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, ছাত্রলীগসহ একাধিক সংগঠন হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করে বিনা মূল্যে বিতরণ করছেন। আবার ব্যক্তি উদ্যোগেও কেউ কেউ মাস্ক, সেনিটাইজার বিতরণ করছেন। এসব মাস্ক, সেনিটাইজার স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক ও নাট্যশিল্পী সামিনা লুৎফা নিত্রা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবীদের কাজের জন্য দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শের আলোকে সঠিক গাইডলাইন তৈরি করা জরুরি।
তিনি বলেন, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থীদের অনেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার জন্য। তারা কিভাবে এই পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে পারে তার জন্য সঠিক নির্দেশনা তৈরি করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহায়তায় হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা দেশেই ছাত্র ইউনিয়নের তৈরি হ্যান্ডসেনিটাইজার বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করেই কেমিক্যাল সংকট তৈরি হয়েছে। বাজারে উপকরণগুলো পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করা উচিত এবং সম্মিলিতভাবে এই সংকটে কাজ করা উচিত। স্বেচ্ছাসেবীরা কিভাবে কাজটি করবে তার তদারকির জন্য বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত হওয়া উচিত।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই স্ট্যাটাস লিখে স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার আগ্রহের কথা জানাচ্ছেন। অনুস্বর নাট্যদলের সদস্য আরিফ সাকিল ফেসবুকে নিজের ফোন নাম্বার দিয়ে জানিয়েছেন তিনি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে চান। একই রকম স্ট্যাটাস দিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নবনীতা চক্রবর্তীসহ অনেকে।
