মসজিদে অনুষ্ঠিত তাবলীগ জামাতের একটি ইজতেমা থেকে পুরো মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১৮৩ জন, মারা গেছেন ৮ জন। খবর রয়টার্স।
শনিবার মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন করে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১৫৩ জন। যাদের মধ্যে ৯০ জনই মসজিদে অনুষ্ঠিত ইজতেমার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
গত মাসের ২৭ তারিখ রাজধানী কুয়ালালামপুরের কাছে একটি মসজিদে চারদিন ব্যাপী এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৭১৪ জনই ওই জমায়েতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, যা মোট আক্রান্তের ৬০ শতাংশ।
ইজতেমাটিতে ১৬ হাজার মুসলিম অংশ নেন। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ ছিল রোহিঙ্গা। মসজিদটি থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও। সেসব দেশে অন্তত ৮৪০ জন আক্রান্ত হয়েছে, যারা ওই জমায়েতে ছিলেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়াতেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি, মোট ৩৮ জন।
হেলথ মালয়েশিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল নুর হিশাম আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কা আগামী সপ্তাহে আক্রান্তের সঙ্গে আরও বেড়ে যাবে। তাবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি, তারা যাতে সবাই স্ক্রিনিংয়ের জন্য আসে।’
তিনি জানান, তাবলীগের ওই জমায়েতে যারা অংশ নিয়েছিল তাদের শনাক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।
এদিকে দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে মালয়েশিয়া সরকার। ওই জমায়েতে অংশ নেয়া কমপক্ষে ২ হাজার রোহিঙ্গাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
রোহিঙ্গাদের কাগজপত্র না থাকায় তাদের চিকিৎসা-সেবার আওতায় আনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে মালয়েশিয়ার জন্য। কে, কোথায় কীভাবে আছেন সেটি ট্র্যাক করা যাচ্ছে না।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করেন। যাদের কারোরই নাগরিকত্ব নেই।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তাবলীগ জামাতের একটি ইজতেমা বন্ধ করে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। শুরুতে রাজি না হলেও ইজতেমা এশিয়া নামে ওই ধর্মীয় জমায়েত বন্ধে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে স্থানীয় তাবলীগ নেতৃত্ব।
