সাংবাদিক আরিফকে নির্যাতন ও দণ্ড

ডিসি সুলতানাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের নির্দেশ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ১০:৪৩ পিএম

কুড়িগ্রামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে মোবাইল কোর্টে দণ্ড দেওয়া ও নির্যাতনের ঘটনায় জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে করা এফ আই আর মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া আরিফুলকে মোবাইল কোর্টে দেওয়া দণ্ড ও সাজার কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন আদালত।

এ সম্পর্কিত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। সাংবাদিক আরিফুলকে সাজা দেওয়ার এ প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে গত ১৩ মার্চ মধ্যরাতে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আরডিসি) নাজিম উদ্দিনসহ কয়েকজন। শারীরিক নির্যাতনের পর আরিফুলের কাছে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে অভিযোগ করে রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে জামিন পান তিনি। অভিযোগ উঠে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের মদদে তাকে নির্যাতন ও সাজা দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করা হয় সুলতানা পারভীন ও নাজিমউদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু চাকমা, এস এম রাহাতুল ইসলামকে। গত ১৯ মার্চ এ চারজনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে কুড়িগ্রাম থানায় এজাহার দায়ের করেন আরিফুল।

ওই ঘটনায় উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে হাইকোর্টে আসেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম। রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান আদালতে এ সাজার বিষয়ে অসংগতি তুলে ধরে জানান, সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক নথিতে আসামির নাম দেখানো হয়েছে মো. রফিকুল ইসলাম। আসামির বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মৃত রফিকুল ইসলাম। এছাড়া সাংবাদিক আরিফুলকে সাজা দেওয়া হয়েছে ১৩ মার্চ। কিন্তু সাজার আদেশের নথিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে ১৪ মার্চ।

রিট আবেদনে আরিফুলকে পক্ষভুক্ত করতে আইনজীবী ইশরাত হাসানকে পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর আরিফুলকে পিটিশনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন। আরিফুলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত