গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহফুজার রহমান হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার, চিকিৎসকদের কক্ষ এবং ফার্মেসির দরজা ও জানালা বন্ধ।
জানা যায়, করোনাভাইরাস আতঙ্কে মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে চিকিৎসা এবং ওষুধ নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বর্তমানে বহির্বিভাগ বন্ধ রেখে শুধু জরুরি বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনা, মারামারি ও ডায়রিয়াসহ জরুরি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, টিকিট কাউন্টার, চিকিৎসকদের কক্ষ এবং ফার্মেসির দরজা-জানালা বন্ধ। প্যাথলজিতে টেকনিশিয়ানরা বসে গল্প করছেন। রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের টেকনিশিয়ান চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন। হাসপাতালে হেল্প ডেস্কে কল করলেও কেউ রিসিভ করেননি।
জ্বর নিয়ে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জ্বরের চিকিৎসা যদি হাসপাতালে না হয় তাহলে কোথায় হবে। সরকারি হাসপাতালে এসে হয়রানির শিকার হতে হলো। হাত ভেঙে যাওয়া আরেক বৃদ্ধ বলেন, হাসপাতালে এসেছিলাম ওষুধ নিতে। এসে শুনি ওষুধ নাকি দেয়া হয় না। দোকান থেকে অল্প ওষুধ কিনে নিয়ে যেতে হবে।
পৌর এলাকার সুখনগরের ইব্রাহীম বলেন, দুই দিন থেকে জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলাম। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনের পরামর্শক্রমে এসেছি জানালে চিকিৎসা দেন ওই চিকিৎসক। জনবল থাকা সত্ত্বেও রক্ত ও এক্স-রে পরীক্ষা করতে হয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। হাসপাতালে গিয়ে বিড়ম্বনা ও বেশি অর্থব্যয়ের শিকার হলাম।
বহির্বিভাগের টিকিট বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার থেকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে কম রোগী আসছেন। যে কয়েকজন আসেন তাদেরকে জরুরি বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে গত রবিবার বিদেশ ফেরত এক অসুস্থ নারী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহফুজার রহমানের কক্ষে দেখা করতে গিয়ে অসুস্থতার কথা বলেন। তারপর থেকে মো. মাহফুজার রহমান হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
ডা. আ খ ম আসাদুজ্জামানের মোবাইলে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. আবুল আজাদ মণ্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বহির্বিভাগ বন্ধের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। আমাদের কথা বলা নিষেধ আছে, প্রশাসনিক বিষয়তো তাই কথা বলার রাইট নেই। তত্ত্বাবধায়ককে কল করেন।
