গতকাল সকালে খুলনায় নিজের বাড়িতে পৌঁছেছেন দেশসেরা আরচার রোমান সানা। করোনাভাইরাসের কারণে দু’দিন আগে বন্ধ হয়ে গেছে আরচারির ক্যাম্প। রোমানদের ক্যাম্প গ্রাউন্ড টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম এখন করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই হুট করেই রোমানদের ফিরতে হয়েছে যার যার বাসাবাড়িতে। বাড়িতে ফিরেও অবশ্য করোনাভাইরাস নামক অস্বস্তিটা পিছু ছাড়েনি আরচারদের। তবে একটা স্বস্তি ঠিকই পাচ্ছেন রোমান। কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারণে আসন্ন টোকিও অলিম্পিক এক বছর পিছিয়ে গেছে বলে স্বস্তি পেয়েছেন একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে গ্রীষ্মকালীন গেমসে সরাসরি খেলার সুযোগ পাওয়া রোমান সানা।
‘অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়াতে বরং ভালোই হয়েছে। কারণ অলিম্পিকের আগে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আসর হওয়ার কথা ছিল, যেগুলো করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় অলিম্পিক হলে প্রস্তুতি মোটেই ভালো হতো না। তাছাড়া এখন ক্যাম্পও বন্ধ হয়ে গেছে। কবে ক্যাম্প শুরু হবে তাও জানি না। সব মিলিয়ে আমি মনে করি পেছানোর সিদ্ধান্তটা সবার জন্য মঙ্গলের’ গতকাল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন রোমান সানা। তিনি যোগ করেন, ‘আল্লাহ যদি মুখ ফিরে তাকান, এই মহামারী যদি দূর হয়, তবে আগামী বছর অলিম্পিকের আগে আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে খেলে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে অংশ নিতে পারব।’
টোকিওতে ২৪ জুলাই শুরু হওয়ার কথা ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর অলিম্পিক গেমসের। এর আগে বিশ্ব আরচারির পঞ্জিকা অনুযায়ী দম ফেলার সুযোগ ছিল না রোমান সানার সামনে। অলিম্পিকের আগে গুয়াতেমালা, চীন এবং জার্মানিতে তিনটি বিশ্বকাপ নির্ধারিত ছিল। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়া কাপ স্টেজ ওয়ান এবং টু খেলার কথা ছিল তার। এর মধ্যে জার্মানির বিশ্বকাপ ছিল অলিম্পিকের শেষ বাছাইপর্ব। রিকার্ভ এককে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা রোমানের জন্য ওই আসরটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না হলেও তিনিসহ রিকার্ভ দলের কোটা পাওয়ার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস ভেস্তে দিয়েছে সব কিছু। বিশ্ব এক এখন লড়ছে এই ভয়ংকর ভাইরাসের সঙ্গে।
রোমান নিজেও এই লড়াইয়ে নিজেকে শরিক করেছেন এবং অন্যদের করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সেটা পথে নেমে নয়, ঘরে থেকে, ‘বাসা থেকে না বের হওয়াটাই ভালো। সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দয়া করে কেউ বের হবেন না। আমার জুনিয়র সতীর্থদেরও বলেছি যাতে প্রয়োজন ছাড়া বের না হয় বাসা থেকে। তারাও সচেতন। আশা করছি করোনা আমাদের বড় কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে সাবধানতা অবলম্বনের পাশাপাশি জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের বেঁধে দেওয়া কিন্তু নিদের্শাবলিও মেনে চলার কথা বলেছেন রোমান সানা, ‘কোচ বলেছেন সম্ভব হলে সকালে একটু রানিং করতে। আর কিছু ফিজিক্যাল ট্রেনিং দিয়েছেন, চার এপ্রিলের পর যদি ক্যাম্পে ফিরতে না পারি, তখন ফেডারেশন ইনস্ট্রুমেন্ট বাড়িতে দিয়ে যাবে। বাড়ির আশপাশে নিরাপদ স্থানে তখন এককভাবে অনুশীলন শুরু করতে হবে।’
করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বকে ওলটপালট করে দিয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনও স্থবির। এই স্থবিরতার সময়টা নিজের মতো কাজে লাগিয়ে আগামী বছর অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত হতে চান রোমান সানা।
