বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ করোনাভাইরাস মোকাবিলা নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। খবর আলজাজিরা।
শি চিনপিং ফোনে ট্রাম্পকে বলেন, ‘দুই দেশ একসঙ্গে মিলিত হয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।’
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য এবং অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ইচ্ছুক চীন।’
এদিকে ট্রাম্পও এক টুইটার পোস্টে এই ফোনালাপের বিষয়টি জানান। করোনার বিরুদ্ধে দুই নেতা একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে এর আগে ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, চীন আগ থেকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করলে আজ বিশ্ববাসীকে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না।
ডিসেম্বরের শেষে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ে। গত সপ্তাহের শেষে দিকে সংক্রমণ কমে আসে দেশটিতে। তিন হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়ে করোনার কেন্দ্র হয়ে উঠে ইউরোপ। চীনের থেকেও বেশি মানুষ মারা যায় ইতালি এবং স্পেনে।
শুক্রবার ২০০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। আক্রান্তের সংখ্যায় সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। যাদের মধ্যে মারা গেছে এক হাজার ২৯৬ জন।
আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি দিন লাফিয়ে বাড়তে থাকায় টান পড়েছে ভেন্টিলেটর, টেস্ট কিট, সুরক্ষা পোশাক, মাস্ক-এর মতো সামগ্রীর। হাসপাতালে স্থান সংকুলান হয়ে পড়েছে। ভেন্টিলেটরের এমনই অভাব দেখা দিয়েছে যে, নিউইয়র্কের একাধিক হাসপাতালে পরীক্ষামূলক ভাবে একটি ভেন্টিলেটর দু’জনকে ভাগ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আগামী চার মাসে মারা যেতে পারে ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ, এমনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন স্কুল অব মেডিসিন এক গবেষণা।
প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই সংক্রমণ রোধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবহেলা ও প্রস্তুতির অভাবের অভিযোগ তোলেন অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নররা। যদিও পরবর্তীতে ভ্যাকসিন গবেষণায় কড়াকড়ি শিথিল, শ্রমিক, কর্মচারী সবার জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। এর মধ্যে গতকাল দুই ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল পাস করে মার্কিন পার্লামেন্ট।
