আজান, কী বলে ইসলাম প্রশ্ন : গতকাল রাত ১০টায় আমাদের এলাকার মসজিদগুলো ছাড়াও আশপাশের বাড়িঘরে একযোগে আজানের ধ্বনি শুনতে পাই। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, করোনা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এটি করছেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো আমলের কথা কি ইসলামে রয়েছে? একটু জানাবেন।
উত্তর : ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজানের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো নামাজের জন্য আজানের বিধান শরিয়তে নেই। যেমনÑ ঈদের নামাজ, বৃষ্টির জন্য ইস্তিসকার নামাজ। এমনকি চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্য গ্রহণের নামাজের জন্যও আজানের বিধান নেই। বরং আজানের পরিবর্তে ‘আসসলাতু জামিআহ’ বলে ডাকতে হবে।
তবে নামাজ ছাড়া অন্য আরও দুটি কাজে আজান দেওয়া শরিয়তে বৈধ। আর তা হলোÑ এক. নবজাতক বাচ্চার ডান কানে আজানের এবং বাম কানে একামাতের শব্দগুলো বলা। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১০৫; তিরমিজি, হাদিস : ১৫১৪; মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২৭২৩০)।
দুই. জিন বা শয়তানের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে আজান দেওয়া। (মুসলিম, হাদিস : ৩৮৯; মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ১৪৩১৬; মুসান্নাফ ইবনে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৯২৫২)।
এ ছাড়া অন্য কোনো কাজে আজানের বিধান শরিয়তে নেই। এমনকি আগুন লাগলেও আজান দেওয়া যাবে না; শুধু তাকবির দেওয়া যাবে। তাই করোনা থেকে মুক্তির জন্য আজান দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। কেউ কেউ একটি হাদিস দিয়ে আজান দেওয়ার দলিল দিচ্ছে, ‘কোন গ্রামে আজান দিলে সেই গ্রামকে আল্লাহ সেদিন তার আজাব থেকে নিরাপদে রাখেন।’ হাদিসবিশারদরা এটিকে দুর্বল হাদিস বলে আখ্যা দিয়েছেন। (সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ, খণ্ড : ৫, পৃষ্ঠা : ২৩১)।
তাই বিপদ-আপদে নতুন কোনো ইবাদত আবিষ্কারের প্রয়োজন নেই। এ সময়ে করণীয় বহু আমল কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো অনুসরণ করলে হবে।
প্রশ্নটি করেছেন : রাফিউল বারী চৌধুরী, বারইয়ার হাট, মিরসরাই, চট্টগ্রাম
