করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও ব্যবহার নেই

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২০, ০১:১৬ এএম

বিশ্বব্যাপী মহামারী রূপে দেখা দেওয়া করোনাভাইরাস শনাক্তে প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষের নমুনা সংগ্রহ ও তা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিএলআরআই)। এখানে ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের গবেষণাগার। যেখানে দুটি রিয়েল টাইম পলিমার্স চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) প্রযুক্তির অত্যাধুনিক যন্ত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্তে প্রতিদিন এক হাজারের ওপর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার। শুধু পরীক্ষার কিট সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে বিএলআরআইতে খুব সহজেই করোনা রোগী শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু পরীক্ষার কিট সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেই বিএলআরআইতে করোনা রোগী শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। এখানে একদল প্রশিক্ষিত বৈজ্ঞানিক রয়েছেন, যারা করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে প্রস্তুত। এছাড়াও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ এক্সট্রাকশন কিট, যা মূল পরীক্ষার পূর্বে প্রয়োজন হয়।’

বিএলআরআইতে কর্মরত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুস সামাদ জানান, পিসিআর সাধারণত দুই ধরনের। একটি হচ্ছে কনভেনশনাল পিসিআর সিস্টেম, অন্যটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রিয়াল টাইম পিসিআর সিস্টেম। যেটি তাদের প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। বিএলআরআইয়ের গবেষণাগারটি ২০১০ সালে ডেনিস সরকারের আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় গড়ে তোলা হয়। এখানে নানা ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করা হয়। এটি মূলত বাংলাদেশে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা পরীক্ষা করার রেফারেন্স ল্যাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যে ভাইরাসটি অনেকটাই করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯-এর মতোই।

করোনা পরীক্ষার সক্ষমতার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএলআরআই মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এখানে বিভিন্ন পশুপাখির ভাইরাস নিয়ে কাজ করা হয়। এখানে যে ল্যাবটি রয়েছে সেটি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের পরীক্ষার জন্য, যেটা পোলট্রিতে হয়। এখন সরকার যদি মনে করে এটি করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য ব্যবহার করবে তাহলে করতে পারে। তবে এজন্য কেমিক্যালস, রি-এজেন্ট ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ লাগবে। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তার জন্য পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দিতে হবে, যা ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের উপযোগী। এ পোশাক হবে কম্বো পিপিই-কাভারঅল, হেডমাস্ক, গ্লাভস, বুট ও সুকাভারসহ। এগুলো হবে ডিসপোজেবল, একবার পরার পর যা ফেলে দিতে হবে।’

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বিএলআরআইপ্রধান বলেন, ‘আমাদের ল্যাবে দুটি মেশিন রয়েছে। এখানে প্রতি ৪-৫ ঘণ্টায় ১৮০-১৯০টি স্যাম্পল টেস্ট করা যাবে। তবে এজন্য অবশ্যই আমাদের যে জনবল রয়েছে তাদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দিতে হবে। এখানে অনেক বৈজ্ঞানিক বিষয় রয়েছে। এজন্য মেশিনগুলোকে পরীক্ষা করে সেগুলো ঠিকমতো কাজ করবে কি না তা পরীক্ষা করে নিতে হবে। ইতিমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকেও আমি বিষয়টি জানিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত