করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের কড়া নির্দেশনার পরও এর পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নির্দেশনা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গ্রামগঞ্জে দোকানপাটকে কেন্দ্র করে জনসমাগম হচ্ছে যেন ঈদ এসে গেছে।
এদিকে সরকার ছুটি ঘোষণার পর অফিস-আদালত, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধের কারণে সারা দেশ থেকে স্থানীয়রা বাড়ি ফিরেছে। এতে পাড়া-মহল্লায় বাড়ছে লোকসমাগম। দুপুরে হাট-বাজার ও দোকানগুলোতে লোকজন কিছুটা কম হলেও সকাল-বিকালে এসব স্থানে থাকে ঈদের আমেজ। দোকানের অর্ধেক শাটার খোলা রেখে এবং প্রশাসনের টহলের খবর জেনে কৌশলে ব্যবসা চলছে। উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মাইকিং, তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করলেও কমছে না জনসমাগম।
সমাজকর্মী আলী নূর জেমস বলেন, বেশ কিছুদিন ছুটি পাওয়ায় শহর ছেড়ে গ্রামে এসেছে অনেক মানুষ। বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন। যদিও নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে থাকার জন্য ছুটি দিয়েছে সরকার। সেটি না করে অনায়াসে রাস্তায় ঘোরাফেরা, হাট-বাজার ও চা-দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন। তার মতে, লোকসমাগমে করোনা আক্রান্ত একজন থাকলে তা বাকিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আড্ডায় মশগুল অনেকে বলছেন, বাড়িতে বন্দি থাকতে ভালো লাগে না। এজন্য সময় কাটাতে ও চা খেতে বাড়ির বাইরে আসছেন। আবার কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন পর গ্রামের বাড়িতে আসায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করছেন। তবে তারাও বলছেন করোনা থেকে বাঁচতে হলে প্রশাসনের আদেশ মানা উচিত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান খোলা না রাখলে চুলায় আগুন জ¦লে না। আবার অনেকেই বলেছেন পাশের দোকান খোলা থাকায় তিনিও বন্ধ রাখেননি।
বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ ও বরুমচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, সব ইউনিয়নে সচেতনতার জন্য মাইকিং করা, লিফলেট, মাস্ক ও হ্যান্ডওয়াশ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে। অপ্রয়োজনে রাস্তায় ঘোরাফেরা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ফার্মেসি ব্যতীত অন্য দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছেন। বেশিরভাগ মানুষ এই নির্দেশনা আমলে নিচ্ছেন না।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, মানুষ সচেতন হলেই জনসমাগম ও অপ্রয়োজনে চলাচল বন্ধ করা সম্ভব। নির্দেশনা অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে।
