নারায়ণগঞ্জে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক নেই

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ০৩:০২ এএম

করোনা আতঙ্কে কর্মস্থলে আসছেন না নারায়ণগঞ্জের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসকরা। কোনো কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য খোলা রাখা হলেও নেই চিকিৎসক। আর কোনো প্রতিষ্ঠানে হাতেগোনা দুই-একজন চিকিৎসক হঠাৎ বসলেও করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে এই অজুহাতে চিকিৎসাসেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন তারা। ফলে প্রতিদিনই এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সরেজমিনে নগরীর ডায়ানস্টিক সেন্টারগুলো ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

সম্প্রতি নগরীর চাষাঢ়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় চিকিৎসকদের সব কক্ষই ফাঁকা। কক্ষের বাইরে বড় বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের নেমপ্লেট দেখা গেলেও ভেতরে কোনো কক্ষেই চিকিৎসক নেই। রোগীরা চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা শুধু বলছেন, লকডাউনের কারণে ঢাকা থেকে চিকিৎসকরা আসছেন না। এর বেশি কিছু বলতে অনীহা প্রকাশ করেন তারা। এ পরিস্থিতিতে নগরীর সুপরিচিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হটলাইন নম্বরটি অকার্যকর করে রাখা হয়েছে বলে রোগীরা অভিযোগ করেন।

একই অবস্থা শহরের আরেক সুপরিচিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিনোভার। প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসকদের চেম্বারের সব কক্ষই তালাবদ্ধ। রিসেপশনে বসে আছেন তিনজন। মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার হেমায়েত হোসেন হিমেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা আতঙ্কে চিকিৎসক কমেছে এটা সত্য। তবে আমাদের এখানে এখনো ২-৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। আমরা এখনো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ পুরোদমেই চলছে।’

অন্যদিকে নগরীর ল্যাবএইড, মডার্ন ও মেডিপ্লাসসহ অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েও কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি এই প্রতিবেদক। নামমাত্র খুলে রাখা হয়েছে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ফতুল্লা থেকে আসা রোগী শিলা আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকাল থেকে পপুলারের নাম্বারে ফোন দিচ্ছি। কোনো প্রতিউত্তর না পেয়ে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাসা থেকে রওনা হই। কিন্তু এখানে এসে দেখি ডাক্তার নেই। রিসেপশনের লোকজনের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা উল্টো বলেন, ‘কেন জানেন না করোনাভাইরাসের কথা। ডাক্তাররা সবাই বাড়িতে। কেউ আসবে না। পরে ফোন দিয়ে আইসেন। এখন আমি কোথায় যাব? কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা কলাগাছিয়া এলাকার জজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি ডাক্তারের অপেক্ষায়। কিন্তু কেউ আসেনি। সেন্টারের কর্মীরা বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আসবে। এখন চলে যান। আমি হার্টের রোগী। এখন আমি কী করব?’

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে না বসার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে। এ থেকে কেউই রক্ষা পাচ্ছে না। এর কোনো ভ্যাকসিনও আবিষ্কার হয়নি। তাছাড়া চিকিৎসার সময় সুরক্ষার তেমন কোনো ব্যবস্থাও নেই। আর তাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে চিকিৎসকরা। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত