কিশোরগঞ্জের ভৈরবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে কর্মহীনদের সরকারি খাদ্যসহায়তা প্রকল্পের তালিকা তৈরিতে টাকা নেওয়ার অভিযোগে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহেল মিয়া এবং তার সহযোগী ফটোস্ট্যাট দোকানদার আলামিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তাদের কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানায় পুলিশ।
জানা যায়, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য সোহেল মিয়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার আওতায় কর্মহীন শ্রমিক শ্রেণির লোকজনদের সরকারি খাদ্যসহায়তার তালিকা তৈরিতে অবৈধভাবে টাকা গ্রহণ করছেন- স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান রাশেদ এলাকা পরিদর্শনে যান।
ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত বাঁশগাড়ি বাজারে ওই ইউপি মেম্বারের সহযোগী আলআমিনের ফটোস্ট্যাটের দোকানে গিয়ে তারা অভিযোগের সত্যতাও দেখতে পান।
ওই দোকানে সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির নাম করে ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। তারা তাৎক্ষণিক ইউপি মেম্বার সোহেল ও দোকানদার আলামীনকে আটক করে উপজেলা কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
পরে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারোয়ার গোলাপকে খবর দিয়ে আনা হয়। পরে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় ওই ইউপি মেম্বার ফটোকপির দোকানদার আলামীনের সহযোগিতায় লোকজনের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
পরে রাতেই গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মুশিউজ্জামান রুবেল বাদী হয়ে ইউপি সদস্য সোহেল ও ফটোকপির দোকানদার আলামীনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই মহাদুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে যারা অসাধুতার চেষ্টা করবেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
