ভারতে তাবলিগ জামাতে অংশ নিতে গিয়ে আটকে থাকা বাংলাদেশি মুসল্লিদের একটি দল দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের কথা রয়েছে।
এদিকে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে তাদের প্রবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হিলির বেশ কয়েকটি স্থানে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানানোর কাজ চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার ওই দলটির হিলি সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের কথা ছিল, তবে এখন পর্যন্ত তারা কেউ প্রবেশ করেনি। এদিকে তাদের থাকার জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নির্মাণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হিলির বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন ও হাকিমপুর ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকার বেশ মানুষজন বের হয়ে থানার ওসির নিকট তাবলিগ জামাতের সদস্যদের থাকার জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপনের বিরোধিতা করেন।
হিলির স্থানীয় এলাকাবাসী খাদেমুল ইসলাম, তুফান, আজম ও মোশারফ বলেন, ভারতে ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতে তাবলিগ জামাতে অংশ নিতে যাওয়া কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে, মারাও গেছেন কয়েকজন। আর তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হিলি স্থলবন্দর সংলগ্ন বালিকা বিদ্যালয়, ডিগ্রি কলেজ ও মহিলা কলেজে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। এতে করে তাদের মাধ্যমে আমাদের এলাকাতেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমাদের এই এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ এর মাঝে তাদের অবস্থানের কারণে অনায়াসে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে। তবে তাদের যদি রাখতেই হয় তাহলে তাদের শহর থেকে দুরে নিয়ে গিয়ে কোথাও কোয়ারেন্টাইন করে রাখুক। নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে আমরা চাই তাদের যেন এই দিক দিয়ে না নেওয়া হয়, একই সঙ্গে তাদের আমরা ঢুকতেও দেব না।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি সেকেন্দার আলী জানান, ভারত দুই দেশের মাঝে সকল ধরনের যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেওয়ায় গত ২৪ মার্চ থেকে শুধুমাত্র ভারতে আটকে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকরদের দেশে ফেরা কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে ভারতে আটকে থাকা তাবলিগ জামাতের সদস্যদের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরার বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত না।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম জানান, তাবলিগ জামাতের সদস্যদের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরার এখন পর্যন্ত কোন সম্ভাবনা নেই। তবে তারা আসলে তাদের নিতে হবে এ বিষয়ে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য আমরা হাকিমপুর ডিগ্রি কলেজকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি।
